Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:৪৫
বিজয় নিশ্চিত করতে কর্মীদের মাঠে রাখবে বিএনপি
আওয়ামী লীগের ভরাডুবির লক্ষ্য, চারটিতে আগের প্রার্থী, বদলাতে পারে দুটির
মাহমুদ আজহার
বিজয় নিশ্চিত করতে কর্মীদের মাঠে রাখবে বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ছয় সিটি নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বিএনপি। এ ছয়টি নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জানান দিতে চায়, সব নির্বাচনেই তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।

মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি বলছে, নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং নির্বাচন মোটামুটি নিশ্চিত হলে আওয়ামী লীগের ‘ভরাডুবি’ হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই সিটি নির্বাচনে জয়-পরাজয় দুটোকেই কাজে লাগাবে দলটি। খুলনা, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, রাজশাহী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে আগের প্রার্থীই থাকতে পারে। বদল হতে পারে দুটিতে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন একযোগে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। একই বছরের ৬ জুলাই হয় গাজীপুর সিটির নির্বাচন। ওই নির্বাচনে সবগুলোয় বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হন। তাই ছয় সিটি নিয়ে আগামীতেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা আশাবাদী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপিই একমাত্র দল দেশে সবচেয়ে ত্যাগ স্বীকার করেছে। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ এখন আর সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না। তারা গায়ের জোরেই ক্ষমতায় থাকতে চায়। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনেই আমরা অংশ নিয়েছি। শঙ্কা জেনেও সামনের ছয় সিটি নির্বাচনে অংশ নেব। নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। ’ জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান, রাজশাহীর মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খুলনার মেয়র মো. মনিরুজ্জামান মনিই আগামীতেও দলের প্রার্থী হবেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমনই আভাস পাওয়া গেছে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় নির্বাচন করতে না চাইলে বিকল্প কাউকে দেওয়া হবে। অন্যদিকে বরিশালের বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের পরিবর্তে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান সরোয়ারের নামই দলের ভিতরে-বাইরে আলোচনায় আছে। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের কথাও বলছেন কেউ কেউ। রংপুর সিটি নির্বাচনে বিগত সময়ে প্রার্থী হয়েছিলেন মহানগর সহসভাপতি কাউসার জামান বাবলা। এবারও তার নাম আলোচনায় আছে। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদও শক্ত প্রার্থী হিসেবে রংপুরে অবস্থান করছেন। জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজুও সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চায়। তবে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রইচ আহমেদের পাল্লাই ভারী বলে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা এও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির যারা প্রতিনিধি হয়েছেন তাদের বড় অংশই দলে নিষ্ক্রিয়। সরকারকে খুশি রাখতে তারা দুঃসময়ে দলকেও আর চেনে না। এ জন্য দলের নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশই তাদের ওপর ক্ষুব্ধ। অনেক এলাকায় দলীয় কর্মসূচি করতেও বাধা হয় এসব জনপ্রতিনিধিরা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিগত নির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন বাছাইয়ে তালিকার ওপরের দিকেই থাকবেন। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এখনো কয়েক মাস বাকি। পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকেই প্রার্থী দেওয়া হবে। দলীয়ভাবে এখনো প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত হয়নি।

ইসির সংলাপে যাচ্ছে বিএনপি : ১৫ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে সংলাপে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি এ সংলাপে অংশ নেবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সংলাপে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত নানা প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। তবে বর্তমান ইসি সরকারের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বিএনপির এ প্রস্তাব আমলে নেবে বলে মনে করেন না দলের নেতারা। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের এ সংলাপ শুধুই লোক দেখানো। তারপরও নিয়মরক্ষার জন্যই বিএনপি এ সংলাপে অংশ নেবে। জানা যায়, কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow