Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৪৩
আবদুল হামিদই আবার রাষ্ট্রপতি
♦ আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত
♦ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে থাকছেন তিনি
♦ সাতবার এমপি ও স্পিকার হিসেবে দুই বার দায়িত্ব পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক
আবদুল হামিদই আবার রাষ্ট্রপতি

আবারও রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড তাঁকেই আবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকারী আওয়ামী লীগের প্রার্থীই যে এ পদে বিজয়ী হবেন তা নিশ্চিত। তাই টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি থাকছেন মো. আবদুল হামিদ।

গত রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আবদুল হামিদকে চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদীয় বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনা। বোর্ডের প্রায় সব সদস্যই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আবদুল হামিদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে দ্বিতীয় মেয়াদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় কোনো প্রার্থীর নাম আসেনি।’ বৈঠকে আবদুল হামিদের নাম প্রস্তাব করেন ওবায়দুল কাদের, সমর্থন জানান তোফায়েল  আহমেদ। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তৎকালীন স্পিকার মো. আবদুল হামিদ। পরে একই বছরের ২৩ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি        নির্বাচিত হন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৪ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্পিকার হিসেবে দুবার দায়িত্ব পালন করেন। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। মনোনয়নপত্র দাখিল ৫ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার দলীয় অবস্থান থাকায় আবারও আবদুল হামিদকেই এ পদে বেছে নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগ ভুল করেছিল বলে দলীয় শীর্ষ পর্যায় মনে করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে তাদের নির্বাচিত সেই রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আওয়ামী লীগ অসহযোগিতা পায়। তা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি থাকায় দেশে ১/১১ সৃষ্টি হয়। তিনি শক্ত হাতে সেই সময়ের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারেননি। অথচ ১৯৯৬ সালে ১২ জুনের নির্বাচনের আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস শক্তভাবে তখনকার একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকায় তাঁর পক্ষে তা সম্ভব হয় বলে নেতাদের ধারণা। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বয়সে কম কাউকে রাষ্ট্রপতি না করার একটা অবস্থান আছে দলে। এসব বিবেচনায় অভিজ্ঞ রাজনীতিক আবদুল হামিদের বিকল্প এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগে আর কেউ নেই। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হতে পারে বলে একটা আশঙ্কা আছে দলীয় নেতাদের। সে রকম পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো পরীক্ষিত, আস্থাভাজন ও সাহসী রাজনীতিবিদ মো. আবদুল হামিদকেই পছন্দ আওয়ামী লীগের। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে তাঁর সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমালোচনা নেই। আবদুল হামিদ স্পিকার থাকাকালেও তিনি বিএনপির ‘প্রিয়ভাজন’ই ছিলেন। জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের ইচ্ছাতেই নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার এখতিয়ার নেই সংসদ সদস্যদের। ফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কারও নির্বাচিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হলেও এরপর আর কোনো নির্বাচনেই ভোট হয়নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। এবারও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আবদুল হামিদ জনগণের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি বহুবার বিষয়টি বলেছেন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ তার ভালো লাগে না। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তিনি জনগণের জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত রেখেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow