Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ২৩:০৯
বিমানে ত্রুটি ছিল না
—বেবিচক চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানে ত্রুটি ছিল না

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান বলেছেন, নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ‘ডেশ-৮’ বিমানটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল না। বিমানটির ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানও বৈমানিক হিসেবে ভালো ছিলেন। নেপালে যাওয়ার আগে একই দিনে আরও দুটি ফ্লাইট করেছে বিমানটি। তবে নেপাল সরকার কর্তৃক গঠিত ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আমরা। তাদের সহায়তা করার জন্য  তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত সহায়ক দল গঠন করেছি। তারা চাইলেই আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত। গতকাল নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের এসব কথা বলেন তিনি। গত সোমবার ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সোমবার বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার একটি উড়োজাহাজ। এ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির চার ক্রুসহ ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন, আহত হন ১০ জন। সর্বমোট নিহত হন ৪৯ জন। গতকাল সকালে ফ্লাইটটির পাইলট আবিদ সুলতান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-এ।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আমার জানা মতে ইউএস বাংলার যাত্রীদের বীমা করা ছিল। প্লেনে সাধারণত দুই ধরনের বীমা থাকে। একটা প্যাসেঞ্জারের, অন্যটা প্লেনের নিজস্ব বীমা। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট অ্যাকটিভ। তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। এর বাইরে যে কোনো ধরনের সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।  বিধ্বস্ত বিমানটি অনেক পুরনো কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ইউএস বাংলার ড্যাস উড়োজাহাজটি দেড় যুগ পুরনো হলেও তা কোনো সমস্যার কারণ নয়। কারণ বিমান কখনো পুরনো হয় না। বিমানের  মেইন জিনিস হলো ইঞ্জিন। ইঞ্জিনের একটা লাইফ আছে। ইঞ্জিন বদল করে আরেকটা লাগালে বিমান নতুন হয়ে যাবে। নিজ বক্তব্যে ‘৭৪৭’ বিমানকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে দুর্ঘটনার শিকার ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনের বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, উড়োজাহাজটি ঠিক ছিল বলেই ছাড়পত্র পেয়েছিল। সিভিল এভিয়েশন থেকে এয়ারওয়ার্দি সার্টিফিকেট না পেলে কেউ ফ্লাই করতে পারবে না। ওই এয়ারক্রাফটিও সকালে দুটো সর্টিং করে এসেছে। অলরেডি এটা তো টেস্টেড। সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম দুবার যাওয়ার পর এটা ছিল তার তৃতীয় ফ্লাইট। উড়োজাহাজটি ভালো ছিল, এটা তো নিঃসন্দেহে প্রমাণিত। পাইলট আবিদ সুলতানকে জোরপূর্বক উড়োজাহাজ চালাতে বাধ্য করা হয়েছিল এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কোনো পাইলটকে অপারেশনে রাখা হবে কিনা,  সেটা এয়ারলাইনসের নিজস্ব ব্যাপার। তবে কোনো পাইলটকে জোর করে বিমান চালানোর নজির নেই। আবিদ এয়ারফোর্সে থাকাকালে আমার সরাসরি ছাত্র ছিল। খুব ভালো পাইলট ছিল আবিদ। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো কিছু অবগত কিনা জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল,  সেটা নিয়ে বলার এখতিয়ার এখনো আমার নেই।  নেপালের একজন প্রাক্তন সচিবের নেতত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারপরও আমরা তিন সদস্যের একটি দল সেখানে পাঠিয়েছি। ওই দলটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহায়তা করা হবে। ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার হয়েছে। এখন ডি-কোড করার পরই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেটা গোপন করার কোনো উপায় নেই।

৪৬ জন স্বজন নিয়ে নেপালে ইউএস বাংলা : বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের প্লেনের হতাহত যাত্রীদের ৪৬ জন স্বজন নিয়ে নেপাল পৌঁছেছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকাল ৯টার দিকে ইউএস বাংলার একটি বিশেষ বিমান ঢাকা ছেড়ে বেলা ১১টার দিকে নেপালে পৌঁছায়। নিহত যাত্রীদের শনাক্ত এবং আহত যাত্রীদের সহায়তা করার জন্যই তাদের নেপালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএস বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে স্বজনরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর কারও পরিবারের একজন, কারও পরিবারের দুজনসহ মোট ৪৬ জনের একটি দলকে উড়োজাহাজে নেপালে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলও নেপাল  গেছে। তারা দূূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন হাসপাতালে যাবেন। এরপর সব প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ-নেপাল সরকার এ কাজে সম্পৃক্ত আছে। কামরুল বলেন, যেহেতু বার্ন ইস্যু রয়েছে, তাই মরদেহ চিহ্নিত করতে বেশ কিছু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আহত-নিহতদের চিকিৎসার সব ব্যয় ইউএস বাংলা বহন করছে।

up-arrow