Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:২৪
আজ রাষ্ট্রীয় শোক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ রাষ্ট্রীয় শোক
bd-pratidin

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানিতে নিহতদের স্মরণে আজ এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ। আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার বিকালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ও কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ, দুই কেবিন ক্রু শারমীন আক্তার নাবিলা ও খাজা হুসাইন এবং ২২ বাংলাদেশি যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ১০ বাংলাদেশি। এ দুর্ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিঙ্গাপুর সফর এক দিন সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার রাতেই দেশে ফিরেছেন। এর আগেই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক এবং আরও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়ে একটি বিমান পাঠানো হয় নেপালে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালও এখন সেখানে অবস্থান করছেন। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকালের বৈঠকে আবারও শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সার্বিক পরিস্থিতি ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। নিহতদের আত্মীয়স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য এয়ার-সেইফটি বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন। সভার শুরুতে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান ঘটনা সম্পর্কে একটি পাওয়ার-পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকেও আহতদের তাদের খরচে দেশে আনা এবং চিকিৎসার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর আগুন লেগে যাওয়ায় অনেক লাশ পুড়ে গেছে, ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow