Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:২৬
যারা বিভ্রান্তিতে আছ অস্ত্র রেখে আস
নিজস্ব প্রতিবেদক ও শাবি প্রতিনিধি
যারা বিভ্রান্তিতে আছ অস্ত্র রেখে আস
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
bd-pratidin

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ‘আমার মনের ভিতর তার জন্য করুণা হয় যে আমাকে আঘাত করেছে। আমার জানতে ইচ্ছা করে, একজন মানুষ কত দুঃখী হতে পারে যার চিন্তা আরেক মানুষকে হত্যা করে সে বেহেশতে যাবে। আমি পবিত্র কোরআন শরিফ সম্পূর্ণ খুব মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। কোরআনে উল্লেখ আছে, যদি তুমি একজন মানুষকে হত্যা কর, তবে তুমি পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলে। আর যদি তুমি একজন মানুষকে বাঁচাও তবে তুমি পুরো মানবজাতিকে বাঁচালে।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা যারা এ ধরনের চিন্তায় আছ, বিভ্রান্তিতে আছ, তারা অস্ত্র রেখে আমার কাছে আস, আমাকে বোঝাও। কী বিভ্রান্তিতে আছ আমাকে জানাও, আমি শুনব।’ গতকাল বিকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ‘সাদাসিধে কথা জাফর স্যার ও আমরা’য় এসব কথা বলেন তিনি। হামলার দিনের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন আঘাত করা হয়, আমি বুঝতে পারিনি। কিন্তু আমার সামনে একটি মেয়ে চিৎকার করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাস্তায় আমার মনে হয়, আমার ব্রেন ইনজুরড হয়নি তো, কারণ ব্রেন না থাকলে মানুষের বেঁচে থাকার কোনো লাভ নেই। তখন আমি সমীকরণ মনে করে, কবিতা মনে করে ব্রেন টেস্ট করা শুরু করলাম। আমি আমার স্ত্রীকে তখন ফোন দিয়ে বলেছিলাম আমি এখনো চিন্তা করতে পারছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই খোদা চান আমি কিছু একটা করি, তাই আমি ফিরে এসেছি। মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে তা আমার পক্ষে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় আর আমি চেষ্টাও করব না।’ এ সময় তিনি পুলিশ, ডাক্তার, সেনা সদস্যদের তাদের কর্মদক্ষতার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন ও তাদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাফর ইকবালের সহধর্মিণী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি খুব আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত যে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছেন। জাফর ইকবাল শাবিপ্রবির ব্র্যান্ডনেম। নতুন প্রজন্ম হচ্ছে জাফর ইকবালের প্রজন্ম। সারা দেশের তরুণ প্রজন্ম তার কথা শোনার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আমরা আশা করব, তিনি এখানে থেকে তার গবেষণা ও কর্ম দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’

জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক বলেন, ‘অনেকে বলে জাফর ইকবাল ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে। কিন্তু তার লেখা ২০০ বইয়ে এমন কিছু লেখা নেই যে তা ইসলামের বিরুদ্ধে যায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বলেই হয়তো তাকে নাস্তিক বানানো হচ্ছে।’ পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় মুক্তমঞ্চে জাফর ইকবালের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন।

দুপুর দেড়টায় পুলিশি নিরাপত্তায় স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হকসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। ক্যাম্পাসে এসেই তিনি বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে যে আমি ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছি। এই দুর্ঘটনা না ঘটলে আমি বুঝতেই পারতাম না এত মানুষ আমাকে ভালোবাসে।’ এর আগে দুপুর ১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবাল হামলার শিকার হন।

৭ দিনের বিশ্রামের উপদেশ : এর আগে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ায় গতকাল সকালে তিনি ঢাকা সিএমএইচ ত্যাগ করেন। তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সিএমএইচে তাকে বিদায় জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আগামী সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রামের উপদেশ দিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow