Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৪৫
সাক্ষাৎকার
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে রোল মডেল হবে জনতা ব্যাংক : লুনা শামসুদ্দোহা
মানিক মুনতাসির
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে রোল মডেল হবে জনতা ব্যাংক : লুনা শামসুদ্দোহা
bd-pratidin

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংক। এজন্য ব্যাংকটির সারা দেশের সব শাখাকে একটি ছাতার নিচে আনতে কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সব লেনদেন একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। যা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের ব্যাংক ছাড়াও দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় এই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আইটি খাতের উন্নয়নের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তিনি। দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ইতিহাসে লুনা শামসুদ্দোহাই প্রথম নারী চেয়ারম্যান সেটা আবার রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের একটি বৃহৎ ব্যাংকের— এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা একটা বড় দায়িত্ব। তবে এটা নতুন চ্যালেঞ্জ নয়। মানুষের প্রতিটি কাজই এক একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এটা একটা বড় কর্তব্য। আমি আমার কর্তব্য পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ব্যাংকটির সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করব।’ সেই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক খাত গড়ে তোলা ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। লুনা শামসুদ্দোহা আরও বলেন, ব্যাংকটির যেসব বদনাম রয়েছে সেগুলো তো পুরনো। নতুন করে যেন আর কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি সংঘটিত না হয় সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন পড়ে। কোনো সমস্যা থেকেই রাতারাতি উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হয় না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহৎ এই ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা যেন বৃদ্ধি পায় সে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব ধরনের সার্ভিলেন্স বাড়ানো, মনিটরিং জোরদারে কোর ব্যাংকিংকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিটি লেনদেনে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ছাড়া মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন। ফলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যাংকার ও গ্রাহক সবাইকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ এবং পারদর্শী হতে হবে। অবশ্য লুনা শামসুদ্দোহা নিজেও একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। ভবিষ্যতে জনতা ব্যাংক কোন ধরনের গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই ভালো গ্রাহক খুঁজতে হবে যে কোনো ব্যাংককে। প্রথমত কোনো গ্রাহক বা ঋণগ্রহীতা যেন দেউলিয়া না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর বেশি বেশি কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই ভারী শিল্পকে অবজ্ঞা করা যাবে না। যেহেতু এসএমই খাত একটি শ্রমঘন খাত। এ খাতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেবে জনতা ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির বোর্ড সভার সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। এ ছাড়া রয়েছে দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের দিকনির্দেশনা ও পরিচালনায় জনতা ব্যাংক সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই জানি, বর্তমানে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি কী। আমাদের অর্থনীতির পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক খাতেরও প্রসার ঘটছে, সেই সঙ্গে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলোও সামনে আসছে। এর অংশ হিসেবে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বকে আমি অনেক বড় কর্তব্য মনে করি। জনতা ব্যাংকের সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। শুধু জনতাতেই নয়, সব ব্যাংক খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। জনতা ব্যাংকে অতীতে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয় সে জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow