Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ২২:৫২
এই ইসিতে ভোট হতে পারে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
এই ইসিতে ভোট হতে পারে না
bd-pratidin

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না তা খুলনায় প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণে পুলিশের হামলার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সব ভোট কেন্দ্র দখল করে সিল মারে। সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে দেয়নি। বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে  নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে।

গত রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। না হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোটব্যবস্থা এমন হতো না। বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারত।

মির্জা ফখরুল বলেন, যখন সংবাদ এলো ১টার পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হয়েছে তখন সিইসিকে ফোন করি, বলি খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি আমাকে বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। আমি যখন বললাম আমি আপনাকে সোর্স বলছি তখন সিইসি নূরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। তখন আমি সংবাদমাধ্যমগুলোর নাম বললে তিনি বলেন আমি দেখছি। এখনো তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনো বলেছেন আমি দেখছি। তিনি শুধুই দেখছেন, কিছুই করতে পারেন না। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সেটা প্রমাণিত হয়েছে যখন আমরা ওখান থেকে খবর পাচ্ছি এক ধরনের, সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে এক ধরনের এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচার হয়েছে আবার ভিন্নভাবে। আসলে তারা আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। এটা কখনো একটা জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। কিন্তু এখন দেখি পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে প্রটেক্ট করছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আন্দোলন করেছেন তারাই ক্ষমতায় এসে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে যাতে একদলীয় ভোট করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। এ বিষয়ে হাই কোর্টের রায়ের যে দোহাই দেওয়া হয় সেখানেও বলা ছিল জাতির স্বার্থে আরও দুটি নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার। কিন্তু তাও তারা মানেনি। সরকার পুরোপুরি নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এমনকি সাবেক সিইসি শামসুল হুদা ও কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow