Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুন, ২০১৮ ২৩:২৯
জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠকে ফেরত চাইলেন নূর চৌধুরীকে
খুনিরা ক্ষমতায় গেলে দেশ রসাতলে যাবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রতিদিন ডেস্ক
খুনিরা ক্ষমতায় গেলে দেশ রসাতলে যাবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বৈঠক করেন —পিআইডি
bd-pratidin

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কানাডা সরকারের কাছে তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে দ্রুততার সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে তার প্রতি অনুরোধ জানান। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কানাডা আওয়ামী লীগের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিদের মদদদাতারা ক্ষমতায় ফিরলে বাংলাদেশ ‘রসাতলে’ যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে উন্নয়ন হয় না। ওই স্বাধীনতা বিরোধী, ওই খুনিদের মদদদানকারী ক্ষমতায় আসলে আবার দেশ রসাতলে যাবে।’ খবর ও বাসস ও বিডিনিউজের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লা পেতিত ফ্রন্টেন্সে অনুষ্ঠিত দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানো এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে ট্রুডোকে বলেন, ‘কানাডায় বসবাসকারী নূর চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যাকারী দুজনের মধ্যে অন্যতম। সে একজন আত্মস্বীকৃত খুনি এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও দণ্ডপ্রাপ্ত।’ প্রেস সচিব জানান, জবাবে জাস্টিন ট্রুডো সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বিষয়টা বুঝতে পারি যে, এটা আপনার জন্য কতটা বেদনার।’ সংশ্লিষ্ট কানাডীয় কর্মকর্তাগণ বিষয়টি নিয়ে একান্তে কাজ করছেন উল্লেখ করে ট্রুডো বলেন, নূর চৌধুরী কানাডার নাগরিকত্বের মর্যাদা পেতে পারে না এবং সে কানাডার নাগরিকও নয়। পাশাপাশি কানাডার প্রধানমন্ত্রী এ সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাঁর দেশের প্রচলিত আইনগত বিষয় ব্যাখ্যা করেন। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশকে সাহায্য এবং সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। অন্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীর প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কানাডার আদালতে লড়বে। এ বিষয়ে কানাডা প্রবাসী সব বাংলাদেশির সাহায্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে সরাসরি গুলি করে হত্যাকারী নূর চৌধুরী বর্তমানে গোপনে কানাডায় বসবাস করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের শাস্তি কার্যকর করতে চাই কেননা তারা বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করায় এবং যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতে শুরু করেছে। মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা আক্তার জানু, অন্টারিও প্রদেশ শাখা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সালাম, ইরতাহাদ জুবেরী সেলিম, কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ মহমুদ মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্স অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন। দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজাকে আদালতের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে সরকারের করার কিছুই নেই— কারণ তার বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালতে তাদের মক্কেলকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতি তাঁর দলের কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। তাঁর সরকার চাইলে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে দেশব্যাপী বিএনপির নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অপতৎপরতার সময় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে পারত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow