Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৮ ২৩:০৩
বড় দল সেরা তারকারা ধরাশায়ী
আসিফ ইকবাল
বড় দল সেরা তারকারা ধরাশায়ী
মেসি ও নেইমার তাদের প্রথম ম্যাচে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি —এএফপি
bd-pratidin

চার বছর ধরে বুকে ধারণ করা যে আবেদন, উন্মাদনা ও প্রাণ নিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ, সমর্থক প্রিয় দুই দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ড্র এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির হেরে যাওয়ায় মনে হচ্ছে ঘোর অন্ধকারে ছেঁয়ে গেছে বিশ্বকাপ। আনন্দ, উন্মাদনাকে পেছনে ফেলে সেখানে জায়গা নিয়েছে একরাশ হতাশা, আফসোস এবং যন্ত্রণা। মস্কো থেকে শুরু করে রুস্টভ হয়ে সোচি- শহরগুলো এখন হতাশার কালো মেঘে ঢাকা। শহরগুলোতে জ্যোত্স্নার আলোকে তাড়িয়ে জায়গা নিয়েছে ঘোর অমাবশ্যা!

বিশ্বকাপের প্রথম ছয়দিনে এক, দুটি নয়, অঘটন ঘটেছে চার চারটি। স্বপ্নের ফুটবল খেলেও ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন জিততে পারেনি ক্রিস্টিয়ানো   রোনালদোর পর্তুগালের হ্যাটট্রিকের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের নবাগত দল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ফেবারিট হয়েও ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। প্রতিবেশী ব্রাজিলও কিন্তু ড্রয়ের ব্যারিয়ার ভাঙতে পারেনি। নেইমার, কুটিনহো, জেসুস, অ্যালেক্সিসের ব্রাজিল ড্র করেছে ‘চির শান্তির দেশ’ সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে। গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি হেরেই গেছে ‘অ্যাজটেক’ সভ্যতার চারণভূমি মেক্সিকোর কাছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন এবং জার্মানির হোচট খাওয়ার দিনগুলোতে ম্লান ছিলেন দুই বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি ও নেইমার। ম্যাচ না জিতলেও সূর্যালোকের মতো উজ্জ্বল ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার রোনালদো। শুধু কি তাই, ফুটবল মহাযজ্ঞের চলতি আসরে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে গেছেন এই পর্তুগিজ তারকা।

বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই অঙ্ক কষতে শুরু করেন ফুটবল বিশেষজ্ঞ থেকে সমর্থকরা। হিসাব করতে থাকেন, ১৫ জুলাই ট্রফি তুলে ধরবে কোন দল? নেইমারের ব্রাজিল, মেসির আর্জেন্টিনা, পাওয়ার ফুটবলের ধারক জার্মানি, ‘টিকিটাকা’ ফুটবলের স্রষ্টা স্পেন, রোনালদোর পর্তুগালকে অনেকেই ফেবারিট ধরে রাশিয়া বিশ্বকাপের অঙ্ক কষেছেন। বাজি ধরেছেন। কিন্তু দ্বাবিংশ শতাব্দীর ফুটবলে যে আবেগের কোনো জায়গা নেই, সেখানে শুধু কৌশল আর ট্যাকটিসই মূল অস্ত্র, সেটার প্রমাণ দিল নবাগত আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও মেক্সিকো। আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপক্ষে কাউন্টার অ্যাটাক এবং  রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। হারের তিক্ত স্বাদও দিয়েছে। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখেছিল ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু কাজের কাজটি করতে পারেনি। যদিও সার্জিও অ্যাগুইরো অসাধারণ গোল করেন ম্যাচে। সেটা ডাবল হওয়ার সুযোগও পেয়েছিল আলবিসেলেস্তারা। কিন্তু ক্লান্ত, বিধ্বস্ত মেসি মিস করেন পেনাল্টি। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার ঠাণ্ডা মাথায় শট নিয়েও গোল করতে পারেননি। তার মিসেই ম্যাচটি জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। মেসির ফ্লপের ম্যাচ আর্জেন্টিনা ১-১ গোলে ড্র করে আইসল্যান্ডের সঙ্গে। মেসির এক সময়কার সতীর্থ নেইমারও ছিলেন ফ্লপ। গোটা মাঠ দৌড়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু একবারের জন্য গোলবারে যুতশই শট নিতে পারেননি। অদ্ভূত হেয়ারকাটের জন্য চরমভাবে সমালোচিত হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার নেইমার। যদিও কুটিনহোর গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল বলেই স্বীকার করে নিয়েছেন সবাই। কিন্তু জেসুস, কুটিনহো, ফিরমিনহোদের সঙ্গে নেইমারও ছিলেন ফ্লপ। তাই র‌্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বর দল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়ে হেক্সা মিশনে আসা ব্রাজিলকে।  চমকে দিয়েছে মেক্সিকো। যে দলটির সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। সেই মেক্সিকো দুরন্ত গতির ফুটবল খেলে ১-০ গোলে পাওয়ার হর্স জার্মানিকে হারিয়ে চমকে দিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। অনেকেই বলছেন চলতি আসরের প্রথম অঘটন। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টিতে শ্রেয়তর দল হিসেবেই জিতেছে মেক্সিকো। আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার রোনালদো। টিকিটাকা ফুটবলের ধারক স্পেনের পাসিং ফুটবলের বিপক্ষে যখন পুরোপুরি কোণঠাসা, তখনই সে াতের বিপরীতে একাই লড়াই করেন রোনালদো। শুধু তাই নয়, স্পেনের তিন গোলের বিপক্ষে তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করেন পর্তুগালের প্রাণভোমরা। ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল এক রোনালদোর ফুটবল জাদুতে ৩-৩ গোলে ড্র করে স্পেনের সঙ্গে। ব্রাজিল,আর্জেন্টিনা, স্পেনের ড্র এবং জার্মানির হারে বিশ্বকাপ রং হারালো কি না, এখন বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্বকাপ আরও বর্ণিল হয়েছে। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও ফ্রান্স জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে। উরুগুয়ে ১-০ গোলে হারিয়েছে মিসরকে। অন্যদিকে ফ্রান্স ২-১ গোলে পরাজিত করে অস্ট্রেলিয়াকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow