Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:১৫
কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডে চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট : হাই কোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক

কতিপয় দুর্বৃত্তের কর্মকাণ্ডে চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, দেশে স্বনামধন্য অনেক চিকিৎসক রয়েছেন। ভালো মানের চিকিৎসাসেবার সুযোগ থাকলেও কিছু ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছেন। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

একটি রুলের শুনানিতে গতকাল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেছে। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন সুভাষ চন্দ্র দাস। ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। এর আগে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আয়োজিত চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চোখ হারানো ২০ জনের ক্ষতিপূরণ নিয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট। কিন্তু সেই রুলের জবাব না আসায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করে আদালত। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম আদালতে উপস্থিত হন। শুনানিতে আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন রুলের জবাব দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করেন। শুনানির এক পর্যায়ে আদালত সিভিল সার্জনকে বলেন, চক্ষু শিবির করার আগে আপনার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা? সিভিল সার্জন জানান, অনুমতি নেওয়া হয়নি। শুনানিতে আদালত স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের বক্তব্য শুনতে চায়। এক পর্যায়ে আদালত বলেন, চট্টগ্রামে যা (বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধের ঘোষণা) হয়েছে, তা দুঃখজনক। এ মামলার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত নয়। যেহেতু আপনি (এখানে উপস্থিত) আছেন তাই বলছি, মানুষ বিপদে পড়লে তিন পেশার লোকের কাছে যায়-পুলিশ, আইনজীবী এবং ডাক্তার। তিনটি পেশা যদি কিছু কিছু দুর্বৃত্তের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মানুষ বিপদে পড়বে। মেয়েটাকে (ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মৃত রাইফা) তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। ডাক্তাররা দেবতা নন। আমাদের ভুল হলে সংশোধনের জন্য উচ্চ আদালত রয়েছে। ভুলটা অন্যায় নয়।

কিন্তু ভুলটা জাস্টিফাই করার জন্য যদি হরতাল (ধর্মঘট) ডাকা হয়, তবে তা অন্যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা মহামান্য আদালতের সঙ্গে একমত। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। চট্টগ্রামে ইতিমধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে চোখ হারানো ২০ জনের বিষয়ে রুল শুনানির জন্য ১৬ জুলাই পরবর্তী দিন নির্ধারণ করে আদালত। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ১ এপ্রিল রিট করা হয়। শুনানি নিয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow