Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩২
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়া নারী জাতির কলঙ্ক
বিএনপি গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তন করল কেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, একজন নারী মানে একজন মা। সেই নারী হয়ে এতিমের টাকা মেরে খাওয়া— এটা চিন্তাই করা যায় না। এটা সমস্ত নারীর জন্য কলঙ্ক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কোর্টের রায়ে জেলে আছেন। মামলাটা আমরা করিনি। রাজনৈতিক কারণে মামলা হলে ২০১৪-১৫ সালেই তাকে গ্রেফতার করতে পারতাম।

গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে  সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নুরজাহান বেগমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মামলাটি প্রায় ১০ বছর চলেছে। বিএনপির এত জাঁদরেল জাঁদরেল আইনজীবী— কেউই আদালতে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারল না। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি অপরাধী।

আর বিএনপি নেতারাও সেটা জানতেন বলেই মামলার রায়ের আগেই দলটির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা সংশোধন করল। নতুবা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতিবাজ, অপরাধী ও দণ্ডিতদের নেতা হওয়ার সুযোগ রাখা হলো কেন?  এতে এটাই প্রমাণ হয় তিনি অপরাধী। এটা নারী জাতির জন্য লজ্জার। নারী জাতির জন্য কলঙ্কের। নারীর ক্ষমতায়নসহ যে কোনো উন্নয়নে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা থাকা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক— সেটাই আমরা চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে দেশ উন্নত হয় না। বরং মানুষ বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হয়। তা-ও বারবার এ দেশে প্রমাণ হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ যেভাবে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আমাদের মেয়েরাই লাভবান হবে। আমি বলব, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা, উন্নয়ন সবকিছুই নির্ভর করে সুষ্ঠু নির্বাচন; যার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস-নাশকতা ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা না থাকলে নারীরা নির্যাতিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে একাত্তরের পাকহানাদার বাহিনীর মতো নারীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়, পাশবিক নির্যাতন চালায়। ৬ বছরের ছোট শিশুকে পর্যন্ত গণধর্ষণ করে। দেশের এমন কোনো স্থান ছিল না যেখানে নির্যাতন হয়নি। যে কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তারা ভোট পায়নি। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলন ও নির্বাচন বানচালের নামে তারা নির্বিচারে নারীসহ দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সারা দেশে নাশকতা চালিয়েছে।

গভীর সমুদ্রবন্দর ও দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র হবে : জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সব দিক থেকে এগিয়ে নিতে আমাদের আরও অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা দরকার। আমরা তা নির্মাণ করব। যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে যোগাযোগ তৈরি করব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে। বাংলাদেশ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করবে। এ ছাড়া আমরা আরও উন্নত বিমানবন্দর নির্মাণ করব। দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করব। গ্রামকে নগরে পরিণত করব, দেশের সব গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেব। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শান্তিময় উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ  : তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতোপূর্বে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, নাশকতামূলক, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম গঠন করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow