Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩৩
পুলিশের দ্বারে রাশেদের মায়ের আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

বাবা নবাই বিশ্বাস রাজমিস্ত্রি, মা সালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। আছে দুটি বোন। একজন বড়, অন্যটি ছোট। সে ঝিনাইদহে পঞ্চম, অষ্টম, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকে সরকারি ও ব্যাংকের বৃত্তির টাকা নিয়ে পড়ালেখার কিছু খরচ চালিয়েছে। আর বাকিটা বাবা-মা ঘাম ঝরিয়ে জুগিয়েছেন।

নিজেদের বাড়ির চাল না কিনে বাবা ছেলের জন্য ঢাকায় টাকা পাঠাতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগে ভর্তির পর তাদের স্বপ্ন ছিল ছেলে অনেক বড় হবে, চাকরি করবে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম গতকাল এসব বলছিলেন আকুতির স্বরে। তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে মেয়ে সোনালী ও রাশেদের স্ত্রী আলোকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন আদালতে আনা-নেওয়ার মাঝে ছেলেকে শুধু একটু দেখার জন্য। ছেলের গ্রেফতারের ঘটনার পর ভাসানটেক, শাহবাগ, ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) থেকে ডিবি কার্যালয়ে প্রতিদিনই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম। তিনি আজ ছেলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে পথে পথে। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় বার বার ধরনা দিচ্ছেন অসহায়ের মতো। সালেহা বেগমের একটাই কথা, ‘আমার মণি ভুল করেছে, আমি তার হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি। সে আর কোটা আন্দোলনে যাবে না। আমার মণিকে আমি ঢাকায় আর রাখব না। গ্রামে নিয়ে চলে যাব। শুধু মুক্তি দাও। সেও বাঁচুক। আমিও বাঁচি।’গত ১ জুলাই ভাসানটেক এলাকা থেকে গ্রেফতার হন রাশেদ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় রাশেদ দ্বিতীয় দফার রিমান্ডে এখন ডিবি পুলিশের হেফাজতে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে উসকানি ছড়িয়েছিলেন। 

সালেহা বেগম বলেন, ‘এমনও দিন গেছে, রাশেদের আব্বা হয়তো বাজার থেকে পাঁচ কেজি চাল কিনে এনেছেন। পরে ছেলে ফোন করে বইখাতা কিনতে টাকা চেয়েছে। তখন চাল ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ছেলেকে টাকা পাঠিয়েছেন। শুধু পানি খেয়ে আমরা রাত পার করেছি। তার এমবিএ ভর্তির সময় ছাগল বিক্রি করেছি। ভেবেছিলাম, পড়াশোনা শেষ। কষ্টের দিনও শেষ। কিন্তু তা হলো না।’ গত ২ জুলাই প্রথম দফায় রাশেদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় ৮ জুলাই ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow