Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩৫
ঢাবিতে নিপীড়নবিরোধী মানববন্ধন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
bd-pratidin

ঢাবি ক্যাম্পাসে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও  অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকারম ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কেউ নিপীড়নমূলক অবস্থান নিলে তাকে অপসারণ করাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল বেলা দুটায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকারে বাধা দেওয়া যাবে না, মিছিল-মিটিং বিক্ষোভ সমাবেশের মতো আন্দোলনের গণতান্ত্রিক ধারাগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন-কোনো ছাত্র সংগঠন বা পুলিশ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না, কোটা সংস্কার ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দাবি করা যে সব শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া ও হামলায় আহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর  চিকিৎসার ব্যয় রাষ্ট্রকে নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিম আরাফাত মানব, অরণি সেমন্তী খান, মেঘ মাল্লার, সানজীদা আলম রিয়া ও শাহনেওয়াজ অমি।

এর আগে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতাদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন। এতে লেখা ছিল ‘হাতুড়ির জ্ঞান পেরেকের উপর ছাত্রের উপর নয়’ ‘আমার ক্যাম্পাসে আমি নিরাপদ তো’ ‘ছাত্রের দায় নিবেন না কেন’ ‘ছাত্র হয়রানি বন্ধ কর’ ‘আমাদের ক্যাম্পাস আমাদের ঘর, এখানে কেন আমরা পর’ ইত্যাদি।

বহিরাগত ইস্যুতে ঢাবি কর্তৃপক্ষের ফের নতুন বক্তব্য : সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে অবস্থান, ঘোরাফেরা এবং কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ঘোষণা দিয়েছিল তা অস্বীকার করে নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়েছে। গতকাল বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খণ্ডিতভাবে তথ্য প্রচার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে দেশের কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খণ্ডিতভাবে তথ্য প্রচারের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কাউকে প্রবেশ বা গমনাগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে উৎসাহিত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেসব সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের কথা প্রভোস্ট কমিটি বলেছে সেগুলো ঐতিহ্যবাহী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি-নীতি ও সিদ্ধান্তের আলোকে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশসহ যে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি আবশ্যক, এটা নতুন কিছু নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে সব সময়ই পূর্বের ন্যায় নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্ব পালন করছে। তাদের দায়িত্ব পালনের অনুকূল কর্ম-পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্ব ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। বর্তমান পদক্ষেপ তার অংশ মাত্র। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস পরিচালনার লক্ষ্যে যা করণীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল— ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শুধু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। এখানে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/প্রক্টরের পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান ও ঘোরাফেরা এবং কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow