Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৮ ২৩:১০
সফর শেষে ফিরে গেলেন রাজনাথ
ভারতের পাঁচ বছরের ভিসা পাবেন বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধারা
কূটনৈতিক ও নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বয়স্ক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের মাল্টিপল অ্যান্ট্রি ভিসা দেবে ভারত। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারতে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার্থী ভিসায় যেতে আগ্রহীদেরও দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা ইস্যু করবে দেশটি।

ভিসা প্রক্রিয়া আরও উদার করতে গতকাল সচিবালয়ে দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী ‘রিভাইসড ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট-২০১৩’ (আরটিএ-২০১৩)-এর সংশোধিত ‘আরটিএ-২০১৮’ স্বাক্ষর হয়েছে। তিন দিনের সফরের শেষ দিনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ে উপস্থিতিতে গতকাল এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে ৬ষ্ঠ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী। দুপুরে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করা রাজনাথ সিং বাংলাদেশের জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে গতকাল দিনের কর্মসূচি শুরু করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রাখা পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। পরিদর্শনের পর রাজনাথ সিং তার নিজের টুইটারে বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতির জনক ও মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলাম। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। বঙ্গবন্ধুর অবদান বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া চিরকাল মনে রাখবে।’ বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তিনি প্রার্থনায় অংশ নেন। তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে দেখেন। মন্দির থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে সকাল ১০টায় সচিবালয়ে পৌঁছান রাজনাথ সিং। সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট ২০১৮ নামের এই চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং ভারতের পক্ষে সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল সেক্রেটারি বিরাজ রাজ শর্মা। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, ভারতের ভিসা সহজীকরণের চুক্তিতে বাংলাদেশের বয়স্ক নাগরিক, যাদের বয়স ৬৫ বছর বা এর ঊর্ধ্বে— তারা ভিসা চাইলে পাঁচ বছরের মাল্টিপল অ্যান্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে। আমাদের বয়স্ক সিটিজেনসরা যদি এটা চান, তাহলে তারা (ভারত) এই ভিসাটি দেবেন। ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে একই সুবিধা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারাও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে কোনো সমস্যার সমাধান আমরা আলোচনার মাধ্যমেই করব। তিনি বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন আমাদের মধ্যে যখনই কোনো সমস্যা দেখে দেবে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক খুবই চমৎকার। আসাদুজ্জামান আরও জানান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। সীমান্তে সড়ক নির্মাণ, দুর্গম এলাকায় বিওপি প্রতিষ্ঠার কথা তাকে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, জাল টাকা নিয়ে দুই দেশ বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ছিল। আমরা সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তাতে তারা খুশি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার এবং মাদক পাচার বন্ধেও আমাদের কথা হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত সীমান্তে সব ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত পথে দু-একটি দুর্গম জায়গায় যেগুলো আছে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। অপরদিকে বৈঠক শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু, দুই দেশের সীমান্ত, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংস্থাসমূহের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জাল মুদ্রা, মাদক ও মানব পাচার রোধ এবং কনস্যুলার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়সহ দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সব ইস্যু আলোচিত হয়। উভয়পক্ষই ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের পারস্পরিক উন্নতির জন্য বিশ্বাস, বন্ধুত্ব ও সমঝোতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। দুপুরের পরপরই বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটি থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে ঢাকা ত্যাগ করেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে বিদায় জানান।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা আসা রাজনাথ সিং শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এদিনই ঢাকায় ভারতের নতুন সমন্বিত ভিসা কেন্দ্র উদ্বোধন ও রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ভবন উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow