Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২০ জুলাই, ২০১৮ ২৩:১৩
আড়াই বছর পর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ
খালেদাকে ছাড়া ভোট নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
খালেদাকে ছাড়া ভোট নয়
দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

দীর্ঘ আড়াই বছর পর রাজধানীতে সমাবেশ করল বিএনপি। এতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। গঠন করতে হবে নিরপেক্ষ সরকার। ভেঙে দিতে হবে সংসদ। সেনা মোতায়েন করতে হবে। এ ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না। গতকাল বিকালে  রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিত্সার দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই সমাবেশে মিলিত হন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বেলা পৌন ৩টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর বানানো অস্থায়ী মঞ্চে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই দাবিতে ঢাকা ছাড়াও সারা দেশে মহানগর-জেলা-উপজেলায় একযোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। পুলিশের শর্তের কারণে জুমার নামাজের পর স্রোত নামতে থাকে কার্যালয়ের সামনে। বেলা আড়াইটার দিকে প্রখর রোদের মধ্যেই নেতা-কর্মীরা ফকিরাপুল থেকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে অবস্থান নেন। তাদের হাতে দেখা যায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতেও শোনা যায় নেতা-কর্মীদের। সমাবেশ শুরুর পরপরই শুরু হয় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। এবার বিএনপিকে সমাবেশের জন্য ২৩টি শর্ত দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে। এ সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমাবেশ শেষ হয় বিকাল সোয়া ৫টায়। বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান; বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া ও আমান উল্লাহ আমান; সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী; ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার; স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া প্রমুখ।

; বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদফতর সম্পাদক বেলাল আহমদ প্রমুখ। সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের দাবি আদায় করতে হবে। অপশাসনকে পরাজিত করতে হবে। জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বাম মোর্চাকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি ঐক্য গড়ে তুলেছে। তাই সবাইকে আহ্বান জানাব, গণতন্ত্রকামী সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হোন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। দেশকে স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত করুন।

 ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র, মানুষের কথা বলার অধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার এ দেশের ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংককেও শেষ করে দিয়েছে। সেখানে রাখা সোনাগুলো নাকি অন্য ধাতু হয়ে গেছে!

কারাবন্দী খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে মানুষটি দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন তাঁকে আজ অন্যায়ভাবে একটি নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি এতটাই অসুস্থ তাঁর আত্মীয়রা দেখা করতে গেলে তিনি নিচে আসতে পারেন না। অথচ সরকারের মন্ত্রীরা বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছি। রাজনীতি করছে সরকার। কারণ তারা খালেদা জিয়াকে ভয় পায়, সেজন্য তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। যে মামলায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সে মামলায় তাঁকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখেছে।

সমাবেশে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা অনেকবার সভা করতে চেয়েছি। অনুমতি দেওয়া হয়নি। আজকের সভা করতে অনুমতি দিয়েছে, তাও মৌখিকভাবে। আমাদের যদি মঞ্চ করে সভা-সমাবেশ করতে দিত, তাহলে কাল প্রধানমন্ত্রী যে সভা করবেন তার চেয়ে বেশি লোক হতো। এ সরকার আমাদের সভা করতে দেয় না, কারণ তারা বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ভয় পায়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি বিনা ভোটের সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করে দেশ চালাচ্ছে। তাই দেশের জনগণের জন্য এ সরকারকে অপসারণ করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এসব করতে হলে সবার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ায় না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে নিয়ে নির্বাচন যাবে। কেউ যদি মনে করেন, ফাঁকা মাঠে গোল দেবেন তাহলে ভুল করবেন। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাব। এ ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থা কোথা গিয়ে ঠেকেছে তা কারও বুঝতে বাকি নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে বলেন, বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে আর কোনো নির্বাচন নয়। এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow