Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৮ ২৩:০৪
জনপ্রশাসন পদক-২০১৮ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
জনসেবায় লাল-সাদা ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনসেবায় লাল-সাদা ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, জনসেবায় লাল-সাদা ফিতার দৌরাত্ম্য যেন না থাকে। জনগণ যাতে দুর্ভোগে না পড়েন। তিনি বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, সরকারি চাকরি মানে দেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ট্যাক্সের পয়সায় সবার বেতন, আরাম-আয়েশ সবকিছু। সুতরাং জনগণের সেবা করা, তাদের জন্য ভালো কিছু করার চিন্তাটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। গতকাল সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩৯ ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ দেওয়া হয়।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় প্রচলিত ছিল লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। এখন অবশ্য লাল ফিতা ব্যবহার হয় না, সাদা ফিতা ব্যবহার হয়। সাদা ফিতা ব্যবহার হলেই কাজের গতি দ্রুত হবে তা যদিও নয়, কিন্তু ওই ফিতার দৌরাত্ম্যটা যেন না থাকে। কোনো কাজ যেন থেমে না থাকে। কোনো কাজ যেন পড়ে না থাকে। তিনি বলেন, একটা ফাইল দেওয়া হলো, এটা পড়ে থাকল। হয়তো হারিয়েও গেল, ভুলেও গেল, এটা যেন না হয়। আবার এমন প্রকল্প না নিয়ে আসা, যেটার কার্যকারিতা খুব একটা নেই বা যাতে খুব একটা শুভফল পাওয়া যাবে না। যেভাবে কাজ করলে সঠিকভাবে জনসেবাটা নিশ্চিত হবে, সেভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের প্রধান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। একটা সময় ছিল সরকারি চাকরি না করলেও বেতন। কাজ করলে করলাম, না করলে না করলাম, এ চিন্তাটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।

জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে আক্ষেপ নেই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। এটা নিয়ে আক্ষেপ নেই। কিন্তু বাংলাদেশকে যে উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা তুলে দিলাম, সেই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই আপনাদের কাছে চাই। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা কী কী করব তার পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছি। রাজধানী ঢাকার ওপর প্রচণ্ড চাপ বাড়ে। সেদিক লক্ষ্য রেখে রাস্তাঘাট, ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, এলিভেটেট এক্সপ্রেস, এমআরটি, মেট্রোরেল করছি। ভবিষ্যতে ঢাকা থেকে সারা দেশে সব জায়গায় যেন দ্রুত যেতে পারি সে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ঢাকা টু চট্টগ্রাম, ঢাকা টু দিনাজপুর বুলেট ট্রেন, ঢাকা থেকে কলকাতা দ্রুত ট্রেন চালু করব। ঢাকা ঘিরে একটা লিংক রোড তৈরি করছি। আমাদের গাড়ি কেনার সক্ষমতা বাড়ছে। প্রতিটি এয়ারপোর্টকে উন্নত করা হচ্ছে। কক্সবাজার এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক মানের হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল এয়ারপোর্টকে আরও বেশি উন্নত করা হবে। শুধু ২০২১ বা ২০৪১ নয়, দুই হাজার একশ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে? সেটা মাথায় রেখে ডেলটা চুক্তি করেছি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে। বাংলাদেশ একটা ডেলটা। সে কারণে প্রতিটি নদীর ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়ানো হবে। নৌপথ-নৌযোগাযোগ বাড়ানো হবে।

ক্ষমতা আর জেলখানা পাশাপাশি : শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রাজনীতি করি, ক্ষমতা আর জেলখানা পাশাপাশি, এটা আমরা জানি। আমাদের কখনো কারাগারে কখনো নানা ধরনের যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে। আমি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। অনেক বাধা এসেছে। লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট ছিল বলেই এখন দেশকে একটা পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত করতে পেরেছি। 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। পরিচালনা করেন জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

পদক পেলেন যারা : সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে জনপ্রশাসনে উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবা সহজীকরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চর্চার উদ্যোগ নেওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে এবার ব্যক্তিগত শ্রেণিতে জনপ্রশাসন পদক পান ময়মনসিংহের ভালুকার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল আহসান তালুকদার। একই শ্রেণিতে পদক পান গাজীপুরের শ্রীপুরের ইউএনও রেহেনা আকতার, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাবিরুল ইসলাম।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইউএনও মো. আবু জাফর রিপন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান আনম, সহকারী প্রোগ্রামার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস দলগত পদক পান। একই পদক পান নাটোরের ডিসি শাহিনা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রাজ্জাকুল ইসলাম, নাটোর সদরের ইউএনও মোছা. জেসমিন আকতার বানু, নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর অনিন্দ্য মণ্ডল, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, সদরের সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার, ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া; ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গার ইউএনও মো. আবদুল মান্নান, শিক্ষা অফিসার মো. আবদুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার মো. লিয়াজ মাহমুদ লিমন। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ পদক পায় গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস।

জাতীয় পর্যায়ে কারিগরিতে ব্যক্তিগত পদক পান নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী, চাঁদপুরের সাবেক ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান এবং রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের ইউএনও মো. আনোয়ার সাদাত। এই ক্যাটাগরিতে দলগত পদক পান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই সার্ভিসের সাবেক পরিচালক (বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব) কবির বিন আনোয়ার, পরিচালক আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান ও এটুআইয়ের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট খালিদ মেহেদী হাসান। একই পদক পান ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. মাহফুজুর রহমান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সহকারী কমিশনার রেজাউল কবীর, এটুআই ন্যাশনাল কনসালটেন্ট মোহাম্মদ এনামুল হক, কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালক এবিএম আজাদ, এম নুরুল আমিন, আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস, কুড়িগ্রামের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আবদুল ওয়ারেছ আনছারী, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সেলিম, জেলা সদর উপজেলার ইউএনও মো. আল আমিন পাল পারভেজ। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পদক পায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন এবং পরে ছবি তোলেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow