Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৮ ২২:৪৮
নির্বাচনী ঈদে মাঠে প্রার্থীরা
খালেদার মুক্তির বার্তা নিয়ে মাঠ গরমে বিএনপি
মাহমুদ আজহার
খালেদার মুক্তির বার্তা নিয়ে মাঠ গরমে বিএনপি
bd-pratidin

বিএনপির তরুণ নেতা নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসনে তিনি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। সাবেক এই ছাত্রনেতা আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে এরই মধ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ে চলে গেছেন। মাঠ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সর্বসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন তিনি। আজ-কালের মধ্যে ঢাকা ছাড়বেন দুই তরুণ নেতা বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মতিন। আলীম সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে এবং মতিন নওগাঁ-৪ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তাদের উদ্দেশ্যও একই। শুধু এই তিন নেতাই নন, কোরবানির ঈদে দলের নবীন-প্রবীণ সহস্রাধিক নেতাই এখন ঘরমুখী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিনিয়র কয়েকজন নেতা ঈদের দিন ঢাকায় থাকলেও পরদিন তারা ঢাকা ছাড়তে পারেন বলে জানা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঈদ একটি ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ঈদ ঘিরে নেতা-কর্মীদের দেখা-সাক্ষাতের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়। গণসংযোগও হয়। আমরা কয়েকজন সিনিয়র নেতা ঈদের দিন কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের চেষ্টা করব। আমাদের অনেকেই বাড়ি যাবেন। নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগও করবেন। এই মুহূর্তে আমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি। আশা করছি, নির্বাচনের আগেই বেগম জিয়া মুক্তি লাভ করবেন। তার নেতৃত্বেই আমরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে চাই।’ সর্বশেষ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের বার্তা সর্বত্রই পৌঁছে দিতে দিকনির্দেশনা দেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। দলের স্থায়ী কমিটির দুই দফা বৈঠকেই ঘুরেফিরে উঠে আসে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের ইস্যুটি। একই বার্তা নিয়ে কোরবানির ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে বেগম জিয়ার মুক্তি ইস্যুটি নিয়েই মাঠ গরম করবেন তারা। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার মায়ের মুক্তির পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নিয়মিতই মাঠ নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। নির্বাচনের আগে শেষ ঈদ ঘিরে নেতা-কর্মীসহ সর্বসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করতে চান সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কার্যত, এটাকে ভোটের প্রাক প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে বিএনপি। এরই মধ্যে ঢাকায় থাকা নেতাদের একটি অংশ চলে গেছে। দু- একদিনের মধ্যে প্রায় সব নেতাই থাকবেন নির্বাচনী এলাকায়। জানা যায়, বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি পুরোদমে ভোটের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। বিএনপি ৩০০ আসনে সহস্রাধিক প্রার্থীও প্রস্তুত করে রেখেছে। এর মধ্যে প্রায় দেড়শ সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও তরুণ নেতা-নেত্রী সবুজ সংকেত পেয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০ ধরে দলীয় ইশতেহার তৈরির কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপি এখন একটি সংলাপ চায়। সরকার সাড়া না দিলে আন্দোলনের পথেই থাকবে দলটি। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সরকারকে রাজি করাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমেও চাপ সৃষ্টিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিতই বৈঠক করছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, নির্বাচনে যেতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পাশাপাশি বিএনপির কয়েকটি শর্তও রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। নইলে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। শুরুতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে অটল ছিল দলটি। পরে সহায়ক সরকার দাবি করলেও এখন বিএনপি যে নামেই হোক নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সরকার চায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচনে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দলটি। নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা। এ ছাড়াও নির্বাচনের তিন মাস আগেই সংসদ ভেঙে দেওয়া, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের সাত দিন আগে মাঠে নামানো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ভোট এবং সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার চায় বিএনপি।

জানা যায়, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি এবারও একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা-নেত্রী ও যুবনেতা ধানের শীষের প্রতীক প্রত্যাশী। এ লক্ষ্যে নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ঈদ ঘিরে তারা নতুনভাবে প্রস্তুতি নিতেও শুরু করেছেন। বিএনপির তরুণ ও যুবনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নূরুদ্দিন অপু, সাইফুল আলম নীরব, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু (কারাবন্দী), মীর সরফত আলী সপু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, মোরতাজুল করিম বাদরু, নূরুল ইসলাম নয়ন, এসএম জাহাঙ্গীর, কাজী রফিক, মামুন হাসান, মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া পিংকু, বাহাউদ্দিন সাদী, নজরুল ইসলাম আজাদ, আবদুল খালেক, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আউয়াল খান, জয়ন্তু কুমার কুণ্ডু, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, গোলাম সারোয়ার মিলন, হায়দার আলী লেলিন, আবু বকর সিদ্দিক, আবদুল বারী ড্যানী, হাসান মামুন, শেখ মোহাম্মদ শামীম, শহীদুল্লাহ ইমরান, কামাল আনোয়ার আহম্মেদ, নাসির উদ্দিন হাজারী, শাহ আলম, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। বর্তমান ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমরা সব সময় নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়া সরকার নির্বাচনের চক্রান্ত করছে। এটা সফল হতে দেওয়া হবে না।’ বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’ শিরোনামে  বিএনপি চেয়ারপারসন যে রূপকল্প ঘোষণা করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এরপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা ও দল সমর্থিত বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী এ কাজে যুক্ত হন। দল ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বুদ্ধিজীবীদের মতামত নেওয়া হয়। বিএনপির এক নেতা জানান, ইশতেহার তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow