Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:১৩
বিএনপি ভুল পথের ঘূর্ণিপাকে : হানিফ
রফিকুল ইসলাম রনি
বিএনপি ভুল পথের ঘূর্ণিপাকে : হানিফ
bd-pratidin

মাঠের বিরোধী দল-বিএনপি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ভুল পথের ঘূর্ণিপাকে আবর্তিত। জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করে গড়ে ওঠা স্বাধীনতাবিরোধীদের প্লাটফর্ম বিএনপি নামক দলটি শুরু থেকেই ভুল পথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা, ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি, লুটপাট, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের উত্থানসহ নানা কারণে দেশের মানুষ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সাংগঠনিক ব্যর্থতায় নেতা-কর্মীরা হতাশায় ভুগছে। ক্রমান্বয়েই দলটির পরিসর ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে চলেছে। বিএনপির কাছ থেকে জাতি ভালো কিছু আশা করে না। কারণ ভুল রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে দলটির কাজই জনবিরোধী। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমান আসার পর থেকে নানারকম নেতিবাচক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে তারা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা করে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হাওয়া ভবন নামে ভবন গড়ে তুলে সরকারের ভিতরে সরকার গঠন করে তারেক রহমান। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যার নীল নকশা করা হয় ওই ভবন থেকে। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জন্য নয়, ব্যক্তির জন্য। সে কারণে ব্যক্তি স্বার্থের জন্য তারা ক্ষমতার বাইরে থেকেও মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ করেনি। ২০১৩ সালে নির্বাচন বানচাল করার জন্য  এবং ২০১৪ সালে ভোট ঠেকানোর জন্য আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করল। এরপর ২০১৫ সালেও সরকারের পতন ঘটানোর জন্য টানা ৯৩ দিন অবরোধ সৃষ্টি করে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করল। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ বিনষ্ট করল। নিরীহ মানুষকে, শিশু-শিক্ষার্থীদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারল। এসব করে বিএনপি জনগণ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব কারণেই ভুল পথে যাচ্ছে।

কারণ মানুষ দেশের কল্যাণে যারা রাজনীতি করে তাদের সঙ্গে থাকতে চায়।

হানিফ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে এখন জেলে রয়েছেন। সেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলো একজন পলাতক ও দুর্নীতিবাজ নেতাকে। যিনি বিদেশে অর্থ পাচার মামলায় আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। গ্রেনেড হামলাসহ বেশ কিছু মামলায় তার বিচার প্রক্রিয়াধীন। একজন ভালো মানুষ খুঁজে বের করতে পারল না বিএনপি। তার মানে এই দলের নেতারা কেউ কাউকে বিশ্বাস করেন না। একে অপরকে সরকারের এজেন্ট বলে গালিগালাজ করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান টার্গেট করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সেই তারেক এখন পলাতক। সব মিলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সার্বিক দিক বিবেচনায় বিএনপির সামনে ভালো কিছু নেই। তাদের নিয়ে আশা করার মতো কিছু নেই। দলটির নেতা-কর্মীরাও হতাশায় ভুগছেন। এ অবস্থায় চলতে থাকলে দলটি ক্ষুদ্রতর থেকে ক্ষুদ্রতর হবে।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি কখনই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজেও মুক্তিযুদ্ধের নাম করে, পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতাবিরোধী-সুবিধাবাদীদের নিয়ে দল গঠন করেন। সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাতিল করেন। কুখ্যাত রাজাকার প্রধান গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানান, রাজাকার আবদুল আলিমকে রেলমন্ত্রী বানিয়ে জিয়াউর রহমান প্রমাণ করেছিলেন, আসলে তিনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি নন। এ ছাড়াও জাতির পিতার খুনিদের বিচার না করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর এর ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী, জাতির পিতার খুনিদের সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন। রাজাকার নিজামী-মুজাহিদদের মন্ত্রী বানিয়ে স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। এখনো তাদের জোট ছাড়তে পারেননি। এ দেশের মানুষ আর কখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসাবে না। তিনি বলেন, মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের রাজনীতি ছাড়া বিএনপি কিছু করতে পারে না। বিএনপির এই আগ্রাসী মনোভাবের কারণ বোঝা কঠিন কিছু নয়। তারা যেনতেন প্রকারে গদি চায়। আর গদি হারানোর রাগে সুযোগ পেলেই মারাত্মক সব কাণ্ড ঘটিয়ে থাকে। বিএনপি হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির সেই দল যাদের আসল উদ্দেশ্য নিজেদের কল্যাণ। তারা জনকল্যাণে রাজনীতি করে না। এটাই তাদের ইতিহাস। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলগুলো রাজপথে থেকে মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে। কিন্তু বিএনপি রাজপথে থাকার পরিবর্তে একের পর এক ষড়যন্ত্র আর সংঘাতে সরকার পতনের জন্য মরিয়া। কিছুদিন আগে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপির শীর্ষ পলাতক নেতা তারেক রহমান ফোনে নির্দেশনা দিলেন। আবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সামাজিক আন্দোলনকে পুঁজি করে বিএনপি নেতারা অস্ত্রধারী-মুখোধারীদের মাঠে নামিয়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করলেন। এটা দেশের জনগণ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতায় তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চাতক পাখি যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টির আশায় দিনের পর দিন মাসের পর মাস আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখন এক ফোঁটা বৃষ্টি হবে, তখন একটু পানি পান করবে। তেমনি বিএনপি দেশের অন্যের ওপর নির্ভর করে কখন সরকার পতন হবে-তারা ক্ষমতায় আসবে। কারণ এই বিএনপি কখনই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে আসলে কী আছে? এ কথাটা তাদের নেতারাই জানেন না। তাদের নেতাদের দিকে তাকালে এখন কেমন জানি দুঃখ হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow