Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:১৪
নীতির প্রশ্নে আপস নাই : প্রধানমন্ত্রী
গণভবন মাঠে ছাত্রলীগের আলোচনা সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
নীতির প্রশ্নে আপস নাই : প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুরা রাস্তায় নেমেছে। শিশুদের ক্ষোভ, বিক্ষোভ; তাদের বিক্ষুব্ধ মন সেটাকে কাজে লাগিয়ে ওই শিশুদের ঘাড়ে পা দিয়ে ফায়দা লুটবার জন্য একদল নেমে পড়ল। তাদের বিরুদ্ধে যখন ব্যবস্থা নিলাম, তখনই চারদিকে যেন হাহাকার। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বিভিন্ন রকম চাপ। দেশে-বিদেশে সবার মাথায় রাখা উচিত, আমার নীতির প্রশ্নে আপস নাই। এটাই আমার শেষ কথা। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে গণভবনের মাঠে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে অনেক জ্ঞানী-গুণী, অনেক অনেক আঁতেল, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নরা কী করলেন? ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি করে দিয়েছি, আর তারই সুযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং বিভিন্ন জায়গায় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। মিথ্যা প্রচারের কারণে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত— সে কথা না ভেবে শিশুদের বিক্ষোভকে ব্যবহার করে ‘ফায়দা লোটার’ চেষ্টা হয়েছিল। স্কুলজীবন থেকে নিজের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্কুলে একটা চ্যাপ্টার ছিল পাকিস্তান চ্যাপ্টার, যার নম্বর ছিল ২০। আমি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম ওই ২০ নম্বর বাদ দিয়ে। কারণ আমি আইয়ুব খানের প্রশংসা লিখব না, আমি লিখতে পারি না। আমি সেই মানুষ। ২০ নম্বরের জন্য ফেলও করতে পারতাম। শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্র রাজনীতি করলেও সে সময় তিনি নেতা হননি। সংগঠনের প্রয়োজনে যেখানে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সব ভাই-বোন। আওয়ামী লীগ যখন সভানেত্রী বানাল তখনই দায়িত্বে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। যে দুঃখী মানুষের জন্য আমার বাবা, মা, ভাইবোন জীবন দিয়ে গেছেন, তাদের জন্য কাজ করি। তিনবার ক্ষমতায় থাকলেও নিজের ওই অবস্থান বদলাননি দাবি করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো আমাকে পরিবর্তন করিনি। তাঁতের শাড়ি বাদ দিয়ে শিফন শাড়ি পরিনি, এই মেকআপ সেই মেকআপ করতে হবে ভাবিনি। শোক দিবসের এ আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মেনে চলার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা তার আদর্শের কথা বলি। আদর্শ শুধু মুখে বলার নয়। আদর্শ অনুসরণ করার, আদর্শ অনুশীলন করার। আদর্শকে মেনে নেওয়া, আদর্শ মেনে চলা— এটাই হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা যদি হয়; দেশকে কিছু দেওয়া যায়, দেশের জন্য কিছু করা যায়। ছাত্রলীগকে তাদের আদর্শ— ‘শিক্ষা, শান্তি, প্রগতী’ মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের আদর্শের নেতা হিসেবে গড়তে পারলে কিছু করতে পারবে। আর যদি সম্পদের লোভে গা ভাসিয়ে দাও, তাহলে হারিয়ে যাবে, ভেসে যাবে। বহু ছাত্রনেতা চলে গেছেন। তারা দেশকে কিছুই দিতে পারেননি। কী পেলাম, কী পেলাম না সেটা বড় কথা নয়, দেশকে কী দিতে পারলাম সেটার নামই রাজনীতি। যারা দেশের জন্য কাজ করে ইতিহাস তাদের মূল্যায়ন করে। ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু জীবন বাজি রেখে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা সারা দেশে বাজিয়েছিল। এতে ছাত্রলীগ কর্মীদের জীবনও দিতে হয়েছে। আজকে সেই ভাষণটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মা জেলখানা থেকে বাবার কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে এসে ছাত্রলীগকে পৌঁছে দিতেন। আবার কখনো বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তখন আমার মা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ৭ মার্চের ভাষণের সময় অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, আবার ছাত্রনেতারাও বলেছেন আজকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। কিন্তু আমার মা আব্বাকে বলেছিলেন, তুমি সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছ, তোমার যা ভালো মনে হবে তা-ই বলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী  : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে নবনির্মিত ‘৭ মার্চ ভবন’ উদ্বোধন করতে আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগমন উপলক্ষে রোকেয়া হলসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হল প্রাঙ্গণে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। এদিকে তাঁর আগমন উপলক্ষে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়েছে ক্যাম্পাস। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পথকে রঙিন করে তুলতে সচিবালয় থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত আলপনা এঁকেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow