Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:১৫
বিমসটেক গ্রিডের সমঝোতা ৫ কানেকটিভিটির অঙ্গীকার
কাঠমান্ডু ঘোষণায় অভিন্ন সড়ক রেল আকাশ নৌ ও জ্বালানি যোগাযোগে ঐকমত্য
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বিমসটেক গ্রিডের সমঝোতা ৫ কানেকটিভিটির অঙ্গীকার
বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন শেষে সদস্য সাত দেশের সরকারপ্রধানগণ
bd-pratidin

১৮ দফা কাঠমান্ডু ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সাত দেশের জোট বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন। এতে সদস্য সাত দেশের মধ্যে পাঁচ ধরনের কানেকটিভিটি স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন সাত সরকারপ্রধান। দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন সড়ক, রেল, আকাশ, নৌ যোগাযোগের পাশাপাশি জ্বালানি সংযোগ স্থাপনের কথা উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়। নেপালে দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন শেষে গতকাল দুপুরে প্রকাশ হয় এ যৌথ ঘোষণা। অবশ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিমসটেক গ্রিড স্থাপনের বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে শীর্ষ সম্মেলনে। কিন্তু প্রস্তুতি থাকলেও স্বাক্ষর হয়নি সন্ত্রাসবাদ দমন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ে অন্য দুই চুক্তি। সম্মেলন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে কাঠমান্ডু যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকালে ঢাকায় ফিরেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইশ্রিপালা সিরিসেনা এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা এ সম্মেলনে যোগ দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সাত সরকারপ্রধান বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার পর গতকাল সকালে অংশ নেন সম্মেলনে রিট্রিট অংশে। একান্তে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাত দেশের শীর্ষ নেতারা। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বিমসটেকের ১৪টি খাত নিয়ে আলোচনা করা হয়। আর তারপরই শুরু হয় সমাপনী অধিবেশন। সেখানে আন্তআঞ্চলিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন সদস্য দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরাও। সমাপনী অধিবেশনে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের হাতে বিমসটেক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। শেষে কাঠমান্ডু ঘোষণায় স্বাক্ষর করে নেপাল ত্যাগ করেন সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান নেপালের উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বর পোখারেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। পরে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সম্মেলন শেষে কাঠমান্ডুতে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘আসলে দুটি চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। কো-অপারেশন অন ক্রিমিনাল মেটারসে সবাই রাজি হওয়া সত্ত্বেও ভুটানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। আশা করা হচ্ছে, অক্টোবরের পরে যখন ভুটানে নতুন সরকার আসবে, তখন সবাই মিলে এই চুক্তিতে সই করবে। আর এ ছাড়া গ্রিড কানেকশনসের ব্যাপারে একটা এমওইউ সমঝোতা স্মারক হয়েছে। যেটা মূলত একটা জলবিদ্যুতের উৎপাদন, পরিচালন, মূল্য নির্ধারণী ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এ সম্মেলনে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, ‘যেহেতু বিমসটেকের আওতায় পলিটিক্যাল ইস্যু প্লাস অভ্যন্তরীণ ইস্যু নিয়ে আলাপ করা যাবে না, বাই-লেটারাল অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে। সেজন্য আমরা এটা করিনি। তার মানে এই নয় যে, এটা সাইড লাইনে আলোচনায় আসেনি।’ নেপালে দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের সাইডলাইনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া এদিন তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ও ভুটানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি অংশ নেন অন্যান্য সব দেশের নেতারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow