Bangladesh Pratidin

শিরোনাম

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:২২
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য
ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৯ জনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহায় সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯৬০ জন। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান, আইনজীবী জোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে পরে ১৩ দিনে হতাহতের মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও ১২ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, চারজন চিকিৎসক, দুজন প্রকৌশলী, দুজন সাংবাদিক, দুজন শিক্ষক, ২০ জন শিক্ষার্থী, ৪২ জন চালক-হেলপার, ৫৯ জন নারী, ৩৪ জন শিশু ও আটজন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী রয়েছেন। দুর্ঘটনার যানবাহন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ বাস, ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬ দশমিক ৬ শতাংশ নসিমন-করিমন, ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক, ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ অটোরিকশা, ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কার-মাইক্রো ও ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৪৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়া, ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ১ দশমিক ১০ শতাংশ চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে, ১ দশমিক ২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ৫ দশমিক ২ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতা ও মনিটরিং জোরদার করার কারণে ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং আহত ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। তবে গত ঈদুল আজহার তুলনায় দুর্ঘটনা ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ও আহত ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, বিরতি বা বিশ্রামহীন যানবাহন চালানো, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক-হেলপার, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাথ না থাকা ও সড়কের বেহাল দশা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ১৬ আগস্ট থেকে ঈদের পর ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত রমজানের ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা কমেছে। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের তুলনায় দুর্ঘটনা ১৪.৪৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩.৫৯ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২৪.১১ শতাংশ কমেছে। গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় নিহত ১৩.৫০ শতাংশ এবং আহত ১১.৬৭ শতাংশ বেড়েছে। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা পৃথিবীর সব দেশেই হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বেশি কথা বলার কারণ এমন কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে যেগুলোর অর্ধেক চাইলে এড়ানো যেত। বাংলাদেশে যারা নীতিনির্ধারণ করেন, তিনিই আবার মালিক শ্রমিক প্রতিনিধি। জবাবদিহিতার ব্যাপারে যে অনাগ্রহ এর মূলে রয়েছে এই কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow