Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১০
ঘাতক সেই বাস জব্দ, চালক পলাতক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
bd-pratidin

শিশু আকিফা নিহতের ঘটনা পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও ঘাতকদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। ওই ঘটনার তিন দিন পর মামলা হলেও এর ধারা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুর স্বজন ও আইনজ্ঞরা। যদিও পুলিশের সেই দায়সারা কথা— মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে গতকাল দুপুরে ঘাতক গঞ্জেরাজ পরিবহনের বাসটি ফরিদপুর থেকে জব্দ করার দাবি করেছে পুলিশ। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে শনিবার ভোরে একজন ড্রাইভারকে দিয়ে বাসটি কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দিয়েছে মালিকপক্ষ। শিশু আকিফার প্রাণ কেড়ে নেওয়া যে বাসটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের মধ্যে রাখা সেই বাসটিতে দেখা গেছে আলামত ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাসের নাম ও নম্বরটি মুছে ফেলেছে ঘাতকরা। পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, ফয়সাল গঞ্জেরাজ পরিবহনের বাসটি ফরিদপুরে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পড়েছিল। সেখান থেকে কুষ্টিয়া পুলিশ জব্দ করে শুক্রবার ভোরের দিকে কুষ্টিয়া নিয়ে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসের মালিক জয়নাল আবেদিনের এক আত্মীয় বলেন, আমরা পুলিশে সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বাসটি হাজির করতে বলেছিল। শনিবার ভোরে একজন ড্রাইভারকে দিয়ে বাসটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ দোষীদের আটক করতে পারিনি। এ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। মামলার অগ্রগতি নিয়েও সন্তুষ্ট নন বাদী ও পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, সারা দেশে এত বড় আলোচিত একটি ঘটনার পরও কোনো পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির বাড়িতে এসে খোঁজ-খবর নেননি। এ ঘটনায় পুলিশের কোনো তৎপরতায় দেখা যাচ্ছে না। পুলিশের ভূমিকায় আমরা হতাশ। আকিফার বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘মামলা করেছি, ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। মেয়েকে হারিয়েছি, এখন চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ঘটনার কয়েক দিন চলে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমি পুলিশের কাছে দাবি করছি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করুন।’ আইনজ্ঞদের মতে, যে ধারায় মামলা হয়েছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দৃষ্টান্তমূলক নয়। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকাও খুব একটা চোখে পড়েনি। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, আট মাসের শিশু সন্তান আকিফা বুঝিয়ে দিয়ে গেল আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা কোন অবস্থায় আছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কি বাসটিকে ধরতে পারত না। বাসের ড্রাইভারকে ধরা যেত না। আকিফার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন কাদেরী বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ফরিদপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গঞ্জেরাজ নামের বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশুকন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। হঠাৎ চালক ইচ্ছা করে বাসটি চালিয়ে রিনা বেগমকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের কোল থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় শিশু আকিফা। দুই দিন যুদ্ধ করে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যুর কাছে হেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় শিশু আকিফা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আকিফার বাবা হারুন উর রশিদ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন গঞ্জেরাজ বাসের মালিক জয়নাল আবেদিন, চালক খোকন মিয়া ও সুপারভাইজার ইউনুচ মাস্টার। এদের সবার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।

বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা মামলার আসামি চালকের সহকারী গ্রেফতার : ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে চট্টগ্রামে বাস থেকে ফেলে রেজাউল করিম রনি হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় চালকের সহকারী মো. মানিক সরকারকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে লক্ষ্মীপুর থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি টিম মানিককে গ্রেফতার করে। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মইনউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার হাজীরহাটে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন মানিক।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় বাস চালক দিদারুল আলমকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মানিক সরকার নগরীর আকবর শাহ থানার ফিরোজ শাহ কৈবল্যধাম আবাসিক এলাকার মোস্তাক সরকারের ছেলে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট দুপুরে নগরীর সিটি গেটের অদূরে গ্ল্যাক্সো কারখানার সামনে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে রেজাউল করিম রনি মারা যান। ভাড়া নিয়ে ঝগড়ার পর বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে বাসচালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরেই স্থানীয়রা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। পরদিন ২৮ আগস্ট রাতে আকবর শাহ থানায় নিহত রনির মামা আবদুর রহমান বাদী হয়ে বাস চালক দিদারুল আলম ও সহকারী মো. মানিককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow