Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৭
ইভিএম ব্যবহারে আরপিও আইন মন্ত্রণালয়ে
থাকছে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুবিধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
bd-pratidin

সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সংশোধিত আরপিও ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দুজন যুগ্মসচিব আরপিওর সংশোধিত কপি আইন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যান।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আরপিওতে ১৪ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইভিএমের বিষয়টি মূল। এ ছাড়া অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত ঋণ পুনঃ তফসিল করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে মনোনয়নপত্রে টিআইএন ব্যববহার করার বিষয়টিও আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে। তারা বলেন, আরপিও বাংলায় করা হলেও তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। শুধু সংশোধিত অংশ ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ইভিএমসহ আরপিওর ১৪টি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইভিএম ছাড়া রয়েছে অনলাইনে মনোয়নপত্র জমা, টিআইএন ও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত ঋণ পুনঃ তফসিল করার সুযোগও।

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে ৩০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়। পাঁচ সদস্যের কমিশনের একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইভিএম বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সভা বর্জন করেন। তিনি ‘নোট অব ডিসেন্টও’ দেন। ইভিএম ব্যবহারের যুক্তি তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছি। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় কিনা তা চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে যাতে সংসদ নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা যায়, সে প্রস্তুতি নিতেই বিধান রেখে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করেছি। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ইভিএমের শুরুর পর্যায় থেকে এখন প্রযুক্তিগত দিক থেকে এ যন্ত্রের অনেক উন্নতি হয়েছে দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আগামীতে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩২টি পৌরসভা ও ৪৯১টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

১৯৭২ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১১ বার সংশোধনী এসেছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে অন্তত ২০৯টি বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ড. এ টি এম শামসুল হুদার ইসি সংলাপ করে ব্যাপক আইনি সংস্কার করে। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন, ২০১৩ বিল পাস হয়। এতে ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা করা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ কিছু সংশোধন এসেছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow