Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৪৯
ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক : সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নতুন প্রযুক্তি (ইভিএম) নিয়ে শুরুতে বাধাবিপত্তি বা উৎকণ্ঠা থাকা ‘স্বাভাবিক’। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, তাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সিইসি। তিনি বলেন, এটা করতে গিয়ে অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে, অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। তারা অনেক কিছু জানতে চেয়েছেন। সেগুলো প্রাসঙ্গিক।

গতকাল নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইভিএম নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে এ কথা বলেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ইটিআই মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন। সিইসি বলেন, সরকার যদি মনে করে, সংসদ যদি মনে করে তাহলেই আইন সংশোধন হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে। কোনো ত্রুটি থাকলে তা ব্যবহার করা হবে না। এখন প্রস্তুতিমূলক অবস্থানে আমরা রয়েছি, এটাকে মাথায় রাখতে হবে। প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তিনি বলেন, ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ আর প্রচার ভালো হলেই এর ইতিবাচক প্রভাব গ্রামে-গঞ্জে, ভোটার, রাজনৈতিক মহল ও প্রার্থীর কাছে পৌঁছে যাবে। এখন পর্যন্ত আমরা প্রচার নিয়ে ব্যাপক অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি। এটা কী, কীভাবে ব্যবহার করা যায়, উপকারিতা কী এ নিয়ে আমরা মানুষের মধ্যে কাজ করব। এই যে আলোচনা-সমালোচনা হয় তারাও এক পর্যায়ে বুঝতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কিনা, তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় মন্তব্য করে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে ইসি এখনো কেবল প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। আইনি ভিত্তি পেলে রাজনৈতিক মহলসহ স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে ইভিএম ব্যবহার শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দৈবচয়ন ভিত্তিতে কিছু আসন বা কেন্দ্র বাছাই করে ইভিএমে ভোট গ্রহণ হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইসির। আসছে ডিসেম্বরের শেষ ভাগে এ নির্বাচনে অনুষ্ঠানের আভাসও দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচলিত ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহার করতে ইতোমধ্যে নির্বাচনী আইন (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২) সংশোধনের প্রস্তাব কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে। তা ভেটিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে। সিইসি বলেন, যদি সরকার আইন প্রণয়ন করে, যদি তা ব্যবহার করার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি আমাদের থাকে, তখন আমরা এটা র‌্যানডম ভিত্তিতে সারা দেশে ব্যবহারের চেষ্টা করব।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে কিছু আসন বেছে নিয়ে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করতে চান তারা, যাতে স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, যাতে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় সেখানে না আসে। আমরা যদি মনে করি ২৫টি আসনে ইভিএমে ভোট করব; সেই ২৫টি আমাদের ইচ্ছামতো দেব না। সিইসি দাবি করেন, ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন আয়োজনে আর্থিক সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারবে না বলে এ পদ্ধতি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাও পাবে।

প্রযুক্তি এখন আর বাক্সের মধ্যে বন্দী নেই, তা মানুষের হাতে হাতে, চিন্তার জগতে প্রবেশ করেছে মন্তব্য করে নূরুল হুদা বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো আমরা নির্বাচন কমিশন এখনো সেই ধানি ব্যাগ, সেই ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা-ভ্যান দিয়ে নির্বাচনী সামগ্রী বহন করি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে হয়। রাতে পাহারা দিতে হয় কখন এসে বাক্সের মধ্যে ছিনতাইকারী ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে দেবে এসব চিন্তা করতে হয়। ইভিএম কিনতে ইসির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে কিনা— সে প্রশ্ন তোলাও অপরাধের কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইভিএমের টাকার দায়িত্বটা ইসির কাছে আসবে না, এটা নিশ্চিত করেই আমরা এগিয়েছি। এটার অর্থনৈতিক দিক রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। কোথাও যদি অপচয়, মিস ইউজ হয় এসব মাথায় রেখে আমরা বিরত থেকেছি। আলাদাভাবে চিঠি দিয়ে এ দায়িত্ব সরকারের কাছে রাখা হয়েছে। সিইসি বলেন, ইভিএমের প্রাথমিক ব্যয় বেশি হবে যন্ত্রের দামের কারণে। তবে তখন ভোট গ্রহণে ‘হাজার রকম’ সামগ্রী প্রয়োজন হবে না। ভোট পরিচালনার জন্য ৭০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলায়। ইভিএমে সেখানেও সাশ্রয় হবে। এসব মেশিন বার বার ব্যবহার করা যাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow