Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫১
কারাগারেই হবে খালেদার বিচার
নিজস্ব প্রতিবেদক
কারাগারেই হবে খালেদার বিচার
bd-pratidin

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারের জন্য আদালত বসবে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গতকাল পুরনো কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অন্য মামলায় পাঁচ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে একমাত্র বন্দী হিসেবে আছেন এই কারাগারেই। কারাগারে আদালত স্থাপনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে   নিরাপত্তাজনিত কারণ উল্লেখ করা হলেও দুদকের আইনজীবী বলছেন খালেদা জিয়া ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হন না, তাই তার সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারাগারে আদালত বসাতে সরকারের এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। এতদিন চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটির শুনানি চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজের মধ্যে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ওই মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে মামলাটির শুনানি গ্রহণ করছিলেন। দুর্নীতির এই মামলায় আজ বুধবার আদালতে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তার আগের দিন এজলাস স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন এলো। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন বিচার বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান সরকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সেজন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হলো। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বিশেষ মামলা নম্বর ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ৭ এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হইবে।’

এর আগে দুপুরে দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলাটা গত ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় মাস হয়ে গেল কোনো কার্যক্রম করতে পারছি না। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়া উপস্থিত হচ্ছেন না। এ কারণে আমরা বলেছি, খালেদা জিয়া যেখানে আছেন সেখানেই আদালত বসানো প্রয়োজন। আমাদের আবেদনেই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে। গেজেট প্রকাশের পর সন্ধ্যায় মোশাররফ হোসেন কাজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সম্মানীত ব্যক্তি। তিনি কষ্ট করে আদালতেও আসতে চান না। তাই আদালতকেই তার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে কাজল বলেন, ‘এটা প্রকাশ্য আদালত। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ও তার আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা হবে।’

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, কারাগারের ভিতর আদালত করা আইনের পরিপন্থী, এটা হতে পারে না। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, কারাগার কখনো প্রকাশ্য আদালত বলে বিবেচিত হতে পারে না। সংবিধান অনুযায়ী বিচার হতে হবে প্রকাশ্য আদালতে। জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, তার জানামতে বাংলাদেশে সামরিক আইনে কারাগারের ভিতর কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল। আর পাকিস্তান আমলে একজন রাজনীতিকের মামলার বিচার কারাগারের ভিতরের আদালতে হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow