Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৩
আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি আওয়ামী লীগ কর্মী সাখাওয়াত মাতুব্বর ওরফে ছাকা মুহুরী (৫৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় আটঘর ইউনিয়নের খোঁয়াড় ও গোয়ালপাড়া  গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান সোহাগ ও গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশার সঙ্গে গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওদুদ মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সোমবার বিকালে সোহাগ চেয়ারম্যানের সমর্থক বিকুল মোল্যার ওপর আক্রমণ করে ওদুদ মাতুব্বরের লোকজন। এ ঘটনার পর সোহাগ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায়। এ নিয়ে গোয়ালপাড়া গ্রামে দুই পক্ষের মাঝে কয়েকদফা সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের ৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় ঘরের মালামাল। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে ফজলুল মতিন বাদশার কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আটঘরের খোঁয়াড় গ্রামের ওদুদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা সাখাওয়াত মাতুব্বরসহ বেশ কিছু ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সাখাওয়াত। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় পাঁচজন। এদের মধ্যে হাবিব ফকিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সাখাওয়াত মাতুব্বর নিহত হওয়ার পর ফজলুল মতিন বাদশা এবং ওদুদ মাতুব্বরের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এ সময় কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সকাল থেকে ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা। আওয়ামী লীগ নেতা ওদুদ মাতুব্বর জানান, পরিকল্পিতভাবে সোহাগ চেয়ারম্যান ও বাদশা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ওদুদ মাতুব্বরের লোকজন আমার এক কর্মীকে মারধর করে। কিন্তু পরবর্তীতে গট্টির সাবেক চেয়ারম্যান বাদশার লোকদের সঙ্গে ওদুদ মাতুব্বরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আমার কোনো কর্মী জড়িত নয়। ফজলুল মতিন বাদশা জানান, ওদুদ মাতুব্বরের লোকজন হামলা চালালে আমার সমর্থকরা প্রতিরোধ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, হামলা ও ভাঙচুরকারীরা যতই শক্তিশালী হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না। হত্যার বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow