Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৮
কঠিন সময় পার করছে দেশ
----- ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী
কঠিন সময় পার করছে দেশ
bd-pratidin

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ‘কঠিন’ সময় অতিক্রম করছে। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং অনির্বাচিত সংসদ সদস্য দিয়ে সংসদ ও মন্ত্রিসভাই এজন্য দায়ী। অনির্বাচিত এমপিদের দিয়ে সংবিধান সংশোধন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের ক্ষমতাকে একটি দুঃখজনক ও অবাঞ্ছিত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। স্বাধীন দেশে এটা হওয়া উচিত ছিল না।

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আলাপচারিতায় উঠে আসে ভারসাম্যের রাজনীতির বিষয়টিও। এ ছাড়া চলমান রাজনীতি, ইভিএম, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-শিশু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, বিএনপি জোটের সঙ্গে নির্বাচনে গেলে আসন বণ্টন এবং যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তিও দাবি করেন বি চৌধুরী। যুক্তফ্রন্টের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বি চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি কথা অনুযায়ী সরকার সব দলের অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচন করলে গণতন্ত্রহীনতার কলঙ্ক মোচন হতো। কিন্তু সরকার তার কথা রাখেনি। গণতন্ত্রহীনতা ও রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারের করুণ পরিণতি হিসেবে দেশের অধিকারবঞ্চিত জনগণ এখন ক্ষুব্ধ। ভোটারদের অন্যায়ভাবে উপেক্ষা করলে এমন অবস্থা হতে পারে, ক্ষমতাসীনদের তা ভাবা উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা ভাবেননি।’

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে গেলে ভারসাম্যের রাজনীতি আনা হবে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এক দলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে হলে ভারসাম্যের রাজনীতির বিকল্প নেই। সংসদে ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটি বড় রাজনৈতিক দলকে ১৫০ আসন এবং অন্যান্য সম্মিলিত দলকে সমানসংখ্যক আসন দিতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে এক দলীয় সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হবে। এভাবে তাদের লাগাম আমাদের হাতে এবং আমাদের লাগাম তাদের হাতে থাকবে। এটাই হলো ভারসাম্যের রাজনীতির মূল কথা।’ তবে ভারসাম্যের রাজনীতির বিষয়ে বিস্তারিত শিগগিরই গণমাধ্যমে তুলে ধরার কথাও জানান যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ক্ষমতার দাম্ভিকতা, স্বেচ্ছাচারিতা আজকে নগ্ন ও বীভৎস। ঘরে নিরাপত্তা নেই। গুম, হত্যা, নারী নির্যাতন দৈনন্দিন ঘটনা। রাস্তায় অদক্ষ প্রশিক্ষণহীন বাস-ট্রাকের চালকের হাতে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। সরকারের শিক্ষামন্ত্রী রয়েসয়ে ঘুষ খেতে বলেন। অর্থমন্ত্রী তো ঘুষকে জায়েজ করে নাম দিয়েছেন স্পিড মানি। কোথায় রাখি এ লজ্জা! গণতন্ত্রের কী নিদারুণ অপমৃত্যু! যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি দল যত্রতত্র মিটিং-মিছিল করছে। কিন্তু বিরোধী দলকে অনুমতি দেওয়া হয় না। নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির ভোটের মাধ্যমে সরকারি দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয় (গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীর সিটি নির্বাচন)। শিক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলনকে যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত দাবি করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, কোটা সংস্কারের ন্যায়সংগত দাবি এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জননন্দিত দাবি উত্থাপনের অপরাধে চাপাতি, লাঠি, পিস্তল হাতে পুলিশের সহায়তায় সরকারের গুণ্ডারা আক্রমণ করল। যারা অত্যাচারিত হলো তাদেরই গ্রেফতার করা হলো, গুণ্ডাদের নয়। সামাজিক, রাজনৈতিক এই অবক্ষয়, লজ্জা রাখি কোথায়! তিনি বলেন, এখন টেলিভিশন ও সংবাদপত্র সরকারের ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। তুচ্ছ কারণে কয়েকটি টেলিভিশন, সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহিদুল আলমের মতো বিশ্বখ্যাত ফটোসাংবাদিককে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশ পৃথিবীকে কীভাবে মুখ দেখাবে? যুক্তফ্রন্টে অন্য কোনো দল আসবে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আরও আসবে। অপেক্ষা করুন। সময়মতো সবই দেখতে পাবেন। যুক্তফ্রন্ট কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করব। তারপর আমরা নির্বাচনে যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুক্তফ্রন্ট যাবে কি না— জানতে চাইলে তা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের কোনো ঐক্য করার সম্ভাবনা আছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে ঐক্য করার সম্ভাবনা সব সময়ই থাকবে। তবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে নয়। প্রশ্ন করা হয়, যুক্তফ্রন্ট কি ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে? উত্তরে বি চৌধুরী বলেন, যুক্তফ্রন্ট ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু ফ্রন্টের বাইরে অন্যদের সঙ্গে ঐক্য হলে সংখ্যার তারতম্য হবে।

ইভিএম নিয়ে যুক্তফ্রন্টের ভাবনা প্রসঙ্গে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার একটি অবাস্তব প্রস্তাব। এটা আমরা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছি। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে যুক্তফ্রন্ট সরকার পরিচালনায় কোন কোন পদ চাইবে? এর জবাবে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, যাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হব, তাদের সঙ্গে আলাপ করেই সরকারে অংশগ্রহণের বিষয় সমাধান করব। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে— এমন প্রশ্নে বি চৌধুরী বলেন, প্রথমত, জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদান (গুম, হত্যা, বিনা বিচারে শাস্তি, আইনের নামে অপশাসন); দ্বিতীয়ত, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারকে সার্বিক অর্থে পুনরুদ্ধার; তৃতীয়ত, দুর্নীতি দমন; চতুর্থত, সন্ত্রাস দমন; পঞ্চমত, দারিদ্র্য দূরীকরণ; ষষ্ঠত, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্মান অর্জন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য দূরীকরণ।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow