Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৩
ধূম্রজাল সৃষ্টির ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধূম্রজাল সৃষ্টির ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেছেন, জনগণ নির্বাচনের পক্ষে।

 যারা নির্বাচন নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করতে চায়, তাদের সম্পর্কে জনগণের সজাগ থাকা দরকার।  নির্বাচনের পৃষ্ঠে কারও পক্ষেই কুঠারাঘাত করা সম্ভব নয়।

রাজধানীর তোপখানা সড়কে বিএমএ ভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা। তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ’৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের চরম দুঃসময়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ডা. জালাল ’৮০-র দশকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক এবং দীর্ঘ ১২ বছর স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তিনবার বিএমএর নির্বাচিত মহাসচিব ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএমএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. জালাল বলেন, তথাকথিত কিছু নেতা নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন। কিন্তু তারা বরাবরের মতোই ব্যর্থ হবেন। তাদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে জনগণ প্রস্তুত। যথাসময়েই নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরবর্তী ২১ বছর শাসকরা জনগণের জন্য কিছুই করেনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন তাঁর হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছে। এটাই ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের চাওয়া। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সে নির্বাচনে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকেই নির্বাচিত করবে। কারণ দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার। আমরা ইতিমধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছি। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আরও এগিয়ে যাবে। ঢাকা-৭ (লালবাগ-কোতোয়ালি-চকবাজার-বংশাল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জালাল বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমি এ এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকায় কাউকে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হয়নি। সে সময় আজিমপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারিকরণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। ইডেন কলেজে এক হাজার ছাত্রীর জন্য হোস্টেল নির্মাণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী এ হোস্টেল উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে লালবাগ-কোতোয়ালি-চকবাজার ও বংশাল এলাকার রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আগামী দিনে আবারও সুযোগ পেলে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চাই। বিএমএ সভাপতি ডা. জালাল বলেন, বিএমএ সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চিকিত্সক সমাজের জন্য যেসব কাজ করেছি তা স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। চিকিত্সকদের বড় আর কোনো দাবি নেই। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনেক কিছু পূরণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর পর আগামী ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএমএ সম্মেলনে আসছেন। ফলে চিকিত্সক সমাজ অনেক আনন্দিত-গর্বিত। তিনি বলেন, বিএমএ মহাসচিব হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যনীতি বাতিল করতে সমর্থ হই। চিকিত্সকদের এত বড় আন্দোলন অতীতে আর হয়নি। তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমার যুগ্ম সচিব শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনকে নিয়ে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে রিকশায় করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় আসার পর আচমকা একটি বুলেটের আঘাতে মিলন আমার কোলে ঢলে পড়ে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিলাম। তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সেখানেই তাকে দাফন করি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow