Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫২
নির্বাচনী ট্রেন যাত্রা শুরু আওয়ামী লীগের
রফিকুল ইসলাম রনি, উত্তরাঞ্চল থেকে
bd-pratidin

সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেন সফরের আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। মূলত এর মাধ্যমেই শুরু হলো আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফর। গতকাল সকাল ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এ যাত্রা শুরু হয়। ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করা হয়। এসব পথসভা রীতিমতো নির্বাচনী জনসভায় রূপ নেয়। প্রতিটি স্থানেই ছিল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বর্তমান এমপি এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্ল্যাটফর্মের পাশে ছোট পথসভার আয়োজন করা হলেও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য ছিল। এ সময় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন উপস্থিত নেতা-কর্মীরা। নীলসাগর ট্রেনের শিডিউল অনুযায়ী সন্ধ্যায় নীলফামারী পৌঁছার কথা থাকলেও পৌঁছায় রাতে।  আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনী এই ট্রেন সফরে ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি. এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ অনেকে।

ট্রেনে ওবায়দুল কাদের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিড়ম্বনার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি। এ সময় যাত্রীরা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে হাসিমুখে স্বাগত জানান এবং আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত নেতা-কর্মী ও জনতার উদ্দেশে বলেন, চারদিকে নৌকার গণজোয়ার দেখছি। পথসভাগুলো রীতিমতো জনসভায় রূপ নিয়েছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হয়। সমৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই দেশের অর্থ লুটপাট করে নিজেদের ভোগ বিলাস। বিদেশে পাচার। রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ ঘটানো। কাজেই আগামী সংসদ নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সে কারণে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না। যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করে নৌকা মার্কায় বিজয় ঘরে তুলব। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামে পরাজিত হয়ে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন কাদের। টাঙ্গাইল রেল স্টেশনের পথসভায় দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর যাবে, রাজশাহী যাবে, বরগুনা যাবে, সিলেট যাবে। তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটু অপেক্ষা করুন। ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেনও চালু হবে। এ সময় সবার উদ্দেশে জানতে চান— প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন কি না? সবাই হাত তুলে বলেন হ্যাঁ করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল স্টেশনে ওই পথসভায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। উত্তরাঞ্চলমুখী ট্রেনযাত্রায় পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে আয়োজিত পথসভায় বিগত নির্বাচনের মতো যদি আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরেও বিএনপি-জামায়াত নাশকতার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বার বার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবারও তারা নতুন ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে। বিগত নির্বাচনের মতো যদি আগামী নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াত নাশকতার চেষ্টা করে, তবে তা প্রতিহত করা হবে।

নাটোর রেলস্টেশনে পথসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপিকে ভোট দেওয়ার মতো কোনো কারণ কি তারা দেখাতে পারবেন? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতির এমন কী আছে যা দেখে বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে। তাদের (বিএনপির) নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের জনপ্রিয়তা তিলে তিলে কমে গেছে। নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল এমপি, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্তেজা বাবলু।

বিএনপির আন্দোলনের হুমকির কথা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও রাস্তায় নামতে পারেনি। ভেবেছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল নামবে, কিন্তু কী দেখলাম নদীর রিপলও (ঢেউ) হলো না। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না, আসবেও না।

বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও জয়পুরহাট স্টেশনে পৃথক পথসভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেউ নিরাপদ থাকবে না। নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। তিনি সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। যারা অপকর্ম করেছেন, জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের মন জয় করতে হবে।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. শেখ কুদরত ই-ইলাহী কাজলের সভাপতিত্বে পথসভায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রিপু, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম খান রাজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী এই ট্রেন যাত্রার শুরুতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতেই উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ট্রেন সফর। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হতে পারে সে বিষয়ে দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর বাই রোডে আমাদের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা রাজশাহী নির্বাচনী সফর করে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমাদের এই নির্বাচনী সফর। কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow