Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৮
খালেদা জিয়া চিকিৎসা চান ইউনাইটেড হাসপাতালে
বিএনপি নেতাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, মেডিকেল বোর্ড হবে, রিট, প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা আইনজীবীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
খালেদা জিয়া চিকিৎসা চান ইউনাইটেড হাসপাতালে
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান —বাংলাদেশ প্রতিদিন
bd-pratidin

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউনাইটেড অথবা এ্যাপোলো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়েছেন বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন খালেদার আইনজীবীরা।

কারাগারে বিচারের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতারা এবং সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল বিকাল ৩টায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বিএনপি নেতারা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে কারা মহাপরিদর্শক মেজর জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ রয়েছেন। তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম। আমরা তাকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, যারা দায়িত্বে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজি প্রিজনসহ অন্যদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেবেন সেটা সুনির্দিষ্টভাবে উনি কিছু বলেননি। বলেছেন, আজকেই (রবিবার) ওই সভাটা করবেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। এতে তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উল্লেখ করে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল অথবা এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলেছেন। খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিসসহ আরও কিছু রোগে আগে থেকেই ভুগছিলেন। বিএনপির এই প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজি প্রিজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সরকারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে যে সুপারিশ করবেন আমরা তাই করব।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী কারাবন্দীদের কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নেই। এরপরও মেডিকেল বোর্ড যে সুপারিশ করবে আমরা তাই বিবেচনা করে দেখব। আমার জানা মতে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেশের সর্বোচ্চ ও ভালোমানের চিকিৎসা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সব এখানেই বসেন।’ এর আগে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তখন কারাবিধির লঙ্ঘন হয়েছিল কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ওই সময় মির্জা ফখরুলসহ অন্যরা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সেটা হয়েছিল আদালতের নির্দেশে। আদালত যদি কারও চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়, সরকার সেটাই পালন করে থাকে। খালেদা জিয়ার ব্যাপারেও এমন কোনো নির্দেশনা এলে আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখব।’

বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা চেয়ে রিট : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চে গতকাল আবেদনটি উপস্থাপন করা হলেও শুনানি হয়নি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। আজ সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে।’

প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পুরনো কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচার এবং অসুস্থ থাকার পরও বিচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আপত্তি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। এসব ঘটনাকে বিচারিক সীমা লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন খালেদার আইনজীবীরা। গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আইনজীবী দলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন এবং বদরুদ্দোজা প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেন। এ সময় একটি লিখিত আবেদনও দিয়েছেন তারা। আবেদনে মূলত তিনটি যুক্তি তারা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। তিনি গুরুতর অসুস্থ, হাঁটতে পারেন না। যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দ্বিতীয়ত, পরিত্যক্ত কারাগারে কোনো বিচারকাজ চলতে পারে না। যদি চলে তা হবে অবৈধ। তৃতীয়ত, দেশের কারাগারের তালিকা থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি এখনো বাদ দেওয়া হয়নি- সে কারণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে সাত মাসে তাকে একবারও আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষ করতে ওই কারাগারের ভিতরেই অস্থায়ী এজলাস স্থাপন করে বিচারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow