Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০১
হাই কোর্টের আদেশ উপেক্ষিত
আহমেদ আল আমীন
bd-pratidin

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হাই কোর্টের দেওয়া রায় আট মাসেও বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের আয়োজন না করায় এ বিষয়ে আদালতের আদেশ প্রায় দুই মাস ধরে উপেক্ষার শিকার হচ্ছে। উচ্চ আদালতের আদেশকে এভাবে অমান্য করার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সম্প্রতি আদালত  অবমাননার অভিযোগে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২৮ বছর ধরে ডাকসু নির্বাচন নেই এটা দুঃখজনক। এরপর কয়েক বছর একটি রিট চালিয়ে উচ্চ আদালত থেকে যে আদেশ পেলাম, তাকেও কয়েক মাস ধরে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এটা আরও দুঃখজনক। আমরা নোটিস দিয়েছি, নির্ধারিত সময়ে জবাব না পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে ১৭ জানুয়ারি হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। একটি রিটে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন এবং বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। ওই নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তার দরকার হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও রায়ে বলা হয়। কিন্তু এই রায়ের পর তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ প্রেক্ষাপটে ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানসহ তিনজনকে নোটিস দিয়েছে রিটকারী পক্ষ। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। ডাকসু নির্বাচন হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডাকসুর নামে চাঁদা ঠিকই তোলা হয়। ১৯৯৮ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ডাকসু নির্বাচনের পর এর সময়সীমা হবে এক বছর। পরবর্তী তিন মাস নির্বাচন না হলে বিদ্যমান কমিটি কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের পর ডাকসু ভেঙে দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে ২০১২ সালে ৩১ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রথমে লিগ্যাল নোটিস, পরে তাদের ২৫ জনের পক্ষে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ এপ্রিল আদালত রুল জারি করে। রুলে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের কাছে রুলের জবাব চাওয়া হয়। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত জানুয়ারিতে রায় দেয় হাই কোর্ট। গত বছরের ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে চ্যান্সেলর হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও ডাকসু নির্বাচনের গুরুত্বারোপ করেন। আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর ২০(১) ধারায় সিনেট গঠন সম্পর্কে যে বিধান আছে তাতে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি ডাকসু কর্তৃক মনোনীত হবেন। ২০(২) ধারা অনুযায়ী ছাত্র সদস্যরা এক বছর সিনেটে সদস্য থাকবেন। ওই আইনের অধীনে প্রণীত ডাকসু সংক্রান্ত আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে— ছাত্রদের শিক্ষা, জ্ঞান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক মান উন্নয়ন করা। ডাকসু নির্বাচন না হওয়ার কারণে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি সিনেটে অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্ররা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow