Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৫
ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত থাকলে আমি নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত থাকলে আমি নেই
ড. কামাল হোসেন
bd-pratidin

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জামায়াত থাকলে নিজেকে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছি। এ ঐক্য প্রক্রিয়ায় কোনোভাবে জামায়াত থাকলে ড. কামাল হোসেন নেই। অতীতেও আমি জামায়াতের সঙ্গে কোনো ঐক্য করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। আমি ও আমাদের দল করবে না। অন্য কোনো দল করবে কি না আমি জানি না। তবে যতটুকু জানি, ওরা (জামায়াতে ইসলামী) তো এখন কোনো দল নয়। ইতিমধ্যে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সারা জীবনই আমি তাদের সঙ্গে ঐক্য করিনি। আমি শেষ জীবনে সেটা করতে যাব কেন!’ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশ এখন সংবিধানের পথে নেই বলেও সাংবাদিকদের জানান প্রবীণ এই আইনজীবী। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ‘বৃহত্তর ঐক্য’ প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল বলেন, ‘ঐক্যের কাজ এগোচ্ছে। আমরা সেটিকে ইতিবাচক দেখতে চাই।’ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলিস্তানের কাজী বশীর মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) সমাবেশের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানান প্রবীণ এই আইনজীবী। বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে গণগ্রেফতারের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা যেটা মনে করি, নির্বাচন সামনে স্বাভাবিক অবস্থা দেশে ফিরে আসুক। সেই প্রেক্ষাপটে বলছি, প্রধান বিরোধী দলের (বিএনপি) মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে চলে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধরপাকড় করা হয়েছে। শত শত লোককে ধরা হয়েছে। এ ধরনের ধরপাকড় হওয়া উচিত নয়। আমরা যেহেতু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, সংবিধানে বিশ্বাস করি, আমরা মনে করি যে সরকার সংবিধান মেনে কাজ করবে। এভাবে ধরপাকড় থেকে তাদের বিরত থাকা দরকার।’ সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, শফিক উল্লাহ, সাইদুর রহমান, মোশতাক আহমদ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, এটা সংবিধানবিরোধী। এ নিয়ে বিএনপি উচ্চ আদালতে রিটও করেছে। এখন বিচারকরা কী বলেন, এটাই দেখার বিষয়। তবে এখানে কর্নেল তাহের প্রসঙ্গটি নিয়ে আসাও ঠিক নয়। কারণ সেটা করা হয়েছিল সামরিক সরকারের আমলে। স্বাধীনতার চার দশকের বেশি সময় পরে এসে আইনের শাসনের ব্যত্যয় ঠিক নয়।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝতে হবে, আমরা একটি সভ্য রাষ্ট্রে বাস করি। কোনো অসভ্য রাষ্ট্রে বাস করি না। সুতরাং এখানে আইনের শাসন জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘এটা সংবিধানসম্মত নয়। আমি আদালতে গেলে এটাই বলব, এটা সংবিধানসম্মত নয়। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে (বেগম খালেদা জিয়া) আটক করেছেন। তার ব্যাপারে জেলখানায় বিচার ঠিক নয়। বলা হচ্ছে কর্নেল তাহেরের উদাহরণ। সামরিক শাসনে সেই বিচার হয়েছে। ৪১ বছরের আগের উদাহরণ দিয়ে এটা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। এভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় স্থানান্তরকে আমি বলব, এটা সংবিধানকে অমান্য করা। সরকার যেটা করছে এটা তাদের পক্ষে যাচ্ছে না।’ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘লোকজনের কাছে শুনছি যে, ওনার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা তারা বলছেন, তারা আবেদনও করেছেন। আমি মনে করি, আমাদের তো একটা ঐতিহ্য আছে যে, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সব সময় এটা হয়ে আসছে। অসুস্থ মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, আমরা একটা সভ্য সমাজে বাস করি। আমরা সভ্য মানুষ। আমাদের সভ্য রাষ্ট্র যেন অসভ্য রাষ্ট্রে পরিণত না হয়।’ দেশ সাংবিধানিক শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. কামাল হোসেন। সারা দেশে পুলিশি গ্রেফতারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক শাসন থাকলে দেশে সবাই যেটা কাজ করবে, ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এই ক্ষমতাটা আইনের ভিত্তিতে সংবিধান মেনে হবে। না হলে তো সাংবিধানিক শাসন থাকে না। আমাদের আজকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে হয়, আমরা সাংবিধানিক শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছি। একদমই যেটা করার কথা নয় এবং সংবিধানের আওতার বাইরে গিয়ে করলে সেটা হয় বেআইনি শাসন, বেআইনিভাবে মানুষকে হয়রানি করা ইত্যাদি। আমি বলব, সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ হতে হবে। জেনেশুনে এগুলো করা গুরুতর অপরাধ। সেই কারণে বলব, সরকার, আপনারা সজাগ হোন, এসব দ্রুত বন্ধ করুন।’ কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা শান্তিপূর্ণ কিছু দাবি করেছিল, সেটা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তাহলে তাদের কেন গ্রেফতার করা হলো!’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow