Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১১
পদত্যাগ মামাবাড়ির পুরনো আবদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
পদত্যাগ মামাবাড়ির পুরনো আবদার

জাতিসংঘের আমন্ত্রণে মির্জা ফখরুলের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জাতিসংঘে যেতেই পারে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি তাদের (বিএনপি) মামাবাড়ির পুরানো আবদার। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, দেশের দায়িত্ব কে নেবেন, মির্জা ফখরুল? গতকাল নগরভবনে আয়োজিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) আয়োজিত ১১ তম সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘ বিএনপিকে ডাকতে পারে, কথা বলতে পারে । কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত আমরাই নেব। তারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার কাছে অবিরাম নালিশ করেই যাচ্ছে। আবারও হয়তো দেবে। তবে আমাদের শক্তির উৎস দেশের জনগণ। সংবিধান বহির্ভূতভাবে কারো চাপের মুখে সরকার নতি স্বীকার করবে না।  সেতুমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের দেশেও একইভাবে নির্বাচন হবে। সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী চলবে। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। তিনি বলেন, চলমান অধিবেশন শেষে অক্টোবরে আরেকটি অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশন সম্ভবত মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে। তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। অক্টোবরের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। এরপর মন্ত্রীরা কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবেন। আর সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙবেও না, সংসদের কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না, নির্বাচনকালে সংসদ বসবেও না। দেশে যদি যুদ্ধপরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেটা ভিন্ন কথা। তবে আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আলাপ-আলোচনা করেই সব কিছুর সমাধান চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াইনি। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। সরকার যদি আদালতের উপর হস্তক্ষেপ করতো, তাহলে ৩০টির ওপরে মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেতেন না।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এদেশের জনগণ যদি উতলা হতো, তাহলে গ্রেপ্তারের পরেই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। একটা ছোট আন্দোলনও দেখলাম না। আর বিএনপি সর্বাত্মক আন্দোলন করবে এটা লোকে বিশ্বাস করে না। তাদের সর্বাত্মক আন্দোলন নিরীহ অনশনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা তো সংসদে নেই। তাহলে তাদের এখানে ডাকবো কেন? এর আগে সংসদ সদস্য ডা. মো: এনামুর রহমান, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজউক চেয়ার আব্দুর রহমান, ডিটিসিএর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কাদের। এ সময় তিনি বলেন, সড়কে সবচেয়ে বেশি আইন ভঙ্গ করেন রাজনৈতিক কর্মীরা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। পুলিশও দায়িত্ব পালন করে না। কিন্তু যত বড় ভিআইপি হোন না কেন, সড়কে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow