Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৪

খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা আদেশ ২০ সেপ্টেম্বর

জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান ফখরুল

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান ফখরুল

পুরনো কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার বিচার চলবে কিনা, আদালত এ বিষয়ে ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেবে। গতকাল নাজিমউদ্দিন রোডের সেই কারাগারে স্থাপিত এজলাসেই ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে পুরনো এই কারাগারের একটি কক্ষে বন্দী রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার, ধার্য দুই তারিখেই শুনানির জন্য আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। গতকাল বিচারক জানান, খালেদা জিয়া কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতে আসবেন না। কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া কাগজ তিনি আদালতে পড়ে শোনান।

গত বুধবার খালেদা জিয়া আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা, এ বিষয়ে আইনজীবীদের কাছে ব্যাখ্যা চান বিচারক। দুই পক্ষের আইনজীবীরাই তাদের পক্ষে আইনগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, আসামি উপস্থিত না থাকলেও বিচার সম্ভব। আইনজীবীরা চাইলে তার প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। অন্যদিকে, খালেদার আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি (খালেদা) আদালতের হেফাজতে আছেন, তাই আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর সুযোগ দেখছেন না খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

গতকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে আদালত শুরু হয়। শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করেন, তারা দুজন কারাগারে দেখা করতে চান। তাহলে খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান না বলে কারা কর্তৃপক্ষ যে কথা বলছে, তার জবাব দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে, আইনগত ব্যাখ্যাও তারা দিতে পারবেন।

কুমিল্লায় জামিন নামঞ্জুর : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাভার্ডভ্যান পোড়ানোর মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বিকাল ৫টায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ কে এম সামছুল আলম এ আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গতকাল অধ্যাপক আবদুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অপর সদস্যরা হলেন— আবু জাফর চৌধুরী বিরু, অধ্যাপক তারেক রেজা এবং অধ্যাপক শামসুন্নাহার। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর এ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন এ তথ্য জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে একবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে বিশেষায়িত বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

খালেদার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান ফখরুল : আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ লোকজনের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চাইল বিএনপি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অপশাসনের ফিরিস্তি উপস্থাপনের পাশাপাশি দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আগামী নির্বাচন করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রসঙ্গও আসে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের যথাযথ ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়।

গতকাল সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্ল্যাভ জেনকারের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা তোলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে বাংলাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়নের কিছু ডকুমেন্টও হস্তান্তর করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য তাবিথ আওয়াল এবং লন্ডন থেকে আসা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর। প্রথা অনুযায়ী তিনি হয়তো পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সবকিছু মহাসচিবের গোচরে আনবেন। বৈঠক শেষেই বিএনপি মহাসচিব ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে মির্জা ফখরুল বলেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারের চরম বৈরী আচরণের প্রসঙ্গও স্থান পায় এ বৈঠকে। বৈঠকের পর সহকারী মহাসচিবের মুখপাত্র হোযে লুইস ডিয়াজ এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘বিএনপির অনুরোধে সহকারী মহাসচিব মিরোস্ল্যাভ জেনকা বিএনপি মহাসচিবকে সাক্ষাৎ দেন। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মাঝেমধ্যেই সহকারী মহাসচিবের দফতর রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে, এটি তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান রেখেছি জবাবদিহি, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য।’ বৈঠকের গুরুত্ব কতটুকু এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন বলেন, ‘সবকিছু নির্ভর করে দেন-দরবারকারীদের সঙ্গে থাকা দেশগুলোর ওপর। সেসব দেশ যদি খুব শক্তিশালী হয় তাহলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়। আর যদি দুর্বল হয়, তাহলে ফটোসেশনে পরিণত হয় এমন বৈঠক। বিএনপির মহাসচিবের বৈঠকের জন্য কারা তদবির করেছে তার ওপর সবকিছু নির্ভর করবে। তবে একটি প্রসঙ্গ সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সাবেক দুই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জন কেরিও শেখ হাসিনাকে ফোন করেন পৃথক দুটি ইস্যুতে। জাতিসংঘ থেকেও কয়েক বছর আগে একজন আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ঢাকায় গিয়ে দেন-দরবার করেছিলেন। ফলাফল সবাই জানি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজের কর্মদক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশের মানুষের ওপর এতটাই আস্থাবান যে, অন্যের কথায় নড়চড় করেন না। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী ওইসব মহলও একপর্যায়ে শেখ হাসিনারই প্রশংসা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলামের দৌড়-ঝাঁপকেও সেভাবেই দেখতে হবে।’ জাতিসংঘ মহাসচিবের সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, ‘জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো শক্তি নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও সমর্থনে কাজ করে। যে কোনো কাজে জাতিসংঘকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে শক্তিশালী বা প্রভাবশালী রাষ্ট্রের অকুণ্ঠ সমর্থন লাগে।’ গত মাসে বিএনপির পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি লবিং ফার্ম ভাড়া করা হয়েছে। সেই ফার্মের তৎপরতার প্রকাশ ঘটল জাতিসংঘে মির্জা ফখরুলের বৈঠকের মধ্য দিয়ে। শিগগিরই স্টেট ডিপার্টমেন্টেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আর এভাবেই সামনের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পথ সুগম হবে বলে আশা নেতা-কর্মীদের। আরও উল্লেখ্য, বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার কোনো কমিটি পাঁচ বছর থেকে নেই। নানাভাবে বিভক্ত হয়ে কাজকর্ম চালালেও মির্জা ফখরুল নিউইয়র্কে এসে কাউকে সাক্ষাৎ দেননি। আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকেও বসেননি।


আপনার মন্তব্য