Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫২
সাক্ষাৎকারে মো. মুজিবুল হক
ভঙ্গুর রেল খাত এখন উন্নয়নের মডেল
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
ভঙ্গুর রেল খাত এখন উন্নয়নের মডেল

বিএনপি-জামায়াতের ভঙ্গুর রেল খাত এখন উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি। তিনি বলেন, এখন ১০টার ট্রেন কয়টায় আসবে বলে কেউ বিরূপ মন্তব্য করেন না। বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হলে যথাসময়েই ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনযাত্রা সব মহলের মানুষের কাছে জনপ্রিয়। বর্তমান সরকারের নেওয়া রেলপথের নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কারণে জনমনে এই স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে রেলের ৪৪টি প্রকল্পের মধ্যে ২০টির কাজই প্রায় শেষের দিকে। বাকিগুলোর কাজও শেষ করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেল খাত নতুন মাত্রা পাবে। আরও স্বস্তিদায়ক হবে সাধারণ মানুষের রেলে যাতায়াত। উন্নত দেশের মতো মানুষ শত কিলোমিটার দূর থেকে ট্রেনে এসে দৈনন্দিন কাজ সেরে বাড়ি ফিরবেন। এতে শহরের ওপর মানুষের চাপ কমবে। তিনি বলেন, রেলে যত উন্নয়ন সবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। তার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় রেলের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। আগামীতেও হবে।’ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ প্রতিবেদকের কাছে নানা পরিকল্পনা ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি। রেলপথ মন্ত্রণালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘রেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটুকু আন্তরিক তা সম্প্রতি রেল নিয়ে তার পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর, ঢাকা-দিনাজপুর ও ঢাকা-সিলেট রুটে বুলেট ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্রকল্পটি ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রকল্পটির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হবে।’ নিজেকে সফল মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে রেলপথ ছিল সম্পূর্ণ অবহেলিত। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রেলপথকে একেবারে ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেই রেলপথকে উন্নয়নের শেখরে নিয়ে গেছেন। স্বতন্ত্রভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। কক্সবাজার রেললাইনসহ চলমান রেলের উন্নয়নমূলক সব প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নজরদারি রয়েছে। এত কম সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ মন্ত্রণালয়ে যে অবদান রেখেছেন তা অবিস্মরণীয়। রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক আরও বলেন, রেলে সেবার মান বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়াতে বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য যাত্রী ও পণ্য উভয় পরিবহনের ক্ষেত্রে আরও ভালো সেবা নিশ্চিত করতে ৭০০ যাত্রী কোচ, ৪০টি ব্রড ও ১৫০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন এবং ১ হাজার ৭৫টি ওয়াগন আমদানি করা হবে। তিনি বলেন, রেলের সেবা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ৪৬টি ব্রড এবং মিটার গেজ রেল ইঞ্জিন, ৬৬৮ যাত্রীবাহী কোচ এবং ব্রডগেজ ও মিটার গেজ লাইনের জন্য ৪৬৬টি ওয়াগন ক্রয় ও পুনর্গঠন করা হবে। তা ছাড়া রেলওয়ের নেটওয়ার্ক বাড়াতে ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৯১ কিলোমিটার পুরনো লাইন পুনর্বাসন এবং ২৮৪ কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করেছে। রাজধানী এবং বন্দর নগরীর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন দ্রুত এবং নিরাপদ করতে ২৪৯ কিলোমিটার রেলপথ সিঙ্গেল গেজ থেকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow