Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:২৩
নকল নিতে আবেদন বাবর-পিন্টুসহ ১১ জনের
আদালত প্রতিবেদক
নকল নিতে আবেদন বাবর-পিন্টুসহ ১১ জনের

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। বাদী ও আসামিপক্ষের কারও হাতে এখনো পৌঁছায়নি রায়ের সত্যায়িত কপি। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় বিচারক নিজেই যাচাই-বাছাই করে রবিবার প্রকাশ করতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি ও তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এদিকে পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত (নকল) কপি পেতে দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামির পক্ষে দুটি করে আবেদন আদালতে করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ আবেদনগুলো আদালতে জমা দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত যে আসামিদের পক্ষে সত্যায়িত কপি পেতে আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (অব.), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআইর সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম (অব.), বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক (অব.), হোসাইন আহমেদ তামিম, আরিফ কমিশনার, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমাইরা ও আরিফ হাসান সুমন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ের কপি পেলেই তারা নিয়মানুয়ায়ী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার পর আইনানুযায়ী রায় কার্যকরের আগে হাই কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারায় এ বিধান রয়েছে। সে মোতাবেক রায়, আদেশ ও নিম্ন আদালতে বিচারের সব নথিপত্র এখন হাই কোর্টে পাঠানো হবে। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ডেথ রেফারেন্স শুনানির ব্যবস্থা করবে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট দফতর। এর আগে রায় ও আদেশের কপি প্রস্তুত করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাহারায় ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে পাঠানো হবে। মামলাসূত্রে জানা গেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় জীবিত আসামি মোট ৪৯ জন। এর মধ্যে কেউই খালাস পাননি। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বুধবার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় ৩১ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। বাকিরা পলাতক। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তিনি গুরুতর আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও নিহত হন ২৪ জন। আহত হন দুই শতাধিক। এ ঘটনায় করা মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলমের অন্য মামলায় আগেই ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাকি আসামিদের মধ্যে ৩১ জন কারাবন্দী। বাকিরা পলাতক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow