Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৫
ধরপাকড় অব্যাহত কড়া নিরাপত্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিশেষ পেট্রোলিং শুরু করেছে র‌্যাব-পুলিশ। সকাল থেকে র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিট রাজধানীসহ প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল শুরু করে। গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল ব্যাপক। সাঁজোয়া যানসহ বাড়তি র‌্যাব-পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সামনে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের প্রধান ফটকে পুলিশি পাহারার পাশাপাশি বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশের একাধিক কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রতিটি জেলার এসপিদের এ বিষয়ে বিশেষ নোট পাঠানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রত্যেকটি ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে তাতে। গোয়েন্দাদের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।

 পোশাকধারী বাড়তি পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ। প্রস্তুত রাখা হয় পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জলকামান। রাতে তালিকা ধরে ধরে শুরু হয় অভিযান। এতে চলে ব্যাপক ধরপাকড়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার জানান, যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ রয়েছে প্রস্তুত। অবস্থা বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে দমন করা হবে।

র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়নের মেজর মোহাম্মদ আলী বলেন, বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সে জন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। র‌্যাব সদস্যরা রাজধানীতে বিশেষ করে আগারগাঁও এলাকায় টহলে ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়তি টহল শুরু করেছে র‌্যাব-পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সড়ক-রেল-নৌপথের কিছু পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। তফসিল ঘিরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। মোড়ে মোড়ে চলে তল্লাশি।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা। নির্বাচন ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার যেমন কমতি নেই, তেমনি স্বার্থান্বেষী মহল অপতৎপরতার সুযোগ নিতে পারে— এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে শুরু হয়েছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। নির্বাচনের জন্য হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের ধরতেও শুরু হয়েছে নানা তৎপরতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধাপে ধাপে এই বিশেষ অভিযান জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, পলাতক অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীরা তাদের ডেরা থেকে বেরিয়ে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ান। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে কেউ যেন বৈধ অস্ত্রের কোনো ধরনের অবৈধ ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারেও বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে যেন অবৈধ অস্ত্রের চালান দেশের ভিতরে ঢুকতে না পারে এ ব্যাপারেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ শুরু করেছে। যেসব সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান হয় সেদিকে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানি গ্রুপগুলোর ওপর। এ ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ওপরও বিশেষ নজর রাখছে পুলিশ। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, চট্টগ্রাম নগরজুড়ে দেশে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে র‌্যাব ও পুলিশের টহল গাড়ি দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ টহল রাখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৭০০ পুলিশও মোতায়েন থাকবে বলে জানা যায়।

সরেজমিন নগরের বিভিন্ন সড়কে টহলরত র‌্যাব ও পুলিশের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। এর মধ্যে ১০টি গাড়িতে প্রায় শতাধিক র‌্যাব সদস্যরা নগরীর দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, হালিশহর, কাজির দেউড়ী, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেট, কোতোয়ালি মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, ‘গতকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট-সড়কে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনকে ঘিরে নগরে যাতে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, তার জন্য নগর পুলিশ সজাগ রয়েছে। সাঁজোয়া যানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নগরবাসীর জানমাল নিরাপত্তায় কাজ করছে।’  

র‌্যাবের টহলে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে সে জন্য র‌্যাব তৎপর আছে। সে লক্ষ্যে র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’

সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নাশকতা রোধে সিলেটে মাঠে নেমেছে র‌্যাব ও পুলিশ। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যস্ততম সড়কের মোড়গুলোতে সতর্কাবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতাও। নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, রিকাবিবাজার, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, টিলাগড়, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার ও উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এলাকায় বসানো হয় নিরাপত্তাচৌকি। সন্দেহভাজন যানবাহনেও চালানো হয় তল্লাশি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কাবস্থার কারণে স্বস্তি ফিরে নগরবাসীর মনে।

নগরীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনারও খবর পাওয়া যায়নি। আগামী কয়েক দিন নগরীতে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি।

র‌্যাব-৯ এর উপঅধিনায়ক মেজর শওকাতুল মোনায়েম জানান, ‘তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাশকতার একটি শঙ্কা ছিল। সেই শঙ্কা ও ভীতি কাটাতে র‌্যাব টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মানুষের মনে স্বস্তি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে কেউ নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করে থাকলে তারাও ভয়ে পিছু হটে থাকবে।’

বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বরিশালের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত বুধবার রাত থেকে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও টহল কার্যক্রম বাড়িয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে সন্দেহভাজনদের। যদিও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেছেন আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে সে জন্য পুলিশ এক্সট্রা অ্যালার্ট। এদিকে ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারির অংশ হিসেবে গত বুধবার থেকেই র‌্যাব-৮ বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর থেকে একযোগে বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। বরিশাল ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ মহড়া শুরু হয়ে বরিশাল মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহ প্রদক্ষিণ করে। একইভাবে র‌্যাব-৮ পটুয়াখালী ক্যাম্প, ফরিদপুর ও মাদারীপুরেও ভিন্ন ভিন্ন বিশেষ টহল শুরু করে। নির্বাচনকালীন সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদা প্রস্তুত বলে গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র‌্যাব-৮।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনায় র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই টহল দেন। জেলা ও উপজেলা শহর ছাড়াও মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান এবং মোটরসাইকেলযোগে টহল চালিয়ে যাচ্ছেন র‌্যাব সদস্যরা।

র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এস এম মোর্শেদ হাসান পিএসসির নেতৃত্বে এই টহল পরিচালনা করা হয় বলেও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এস এম মোর্শেদ হাসান পিএসসি জানান, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং সেটিকে কেন্দ্র করে কিছু মহল দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার জন্য তৎপর হতে পারে। মূলত আমাদের এই স্পেশাল পেট্রোল সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের রক্ষার জন্যই এই টহল জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিশৃঙ্খলাকারী যে কেউ হোক না কেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আসন্ন নির্বাচন ও তফসিলকে কেন্দ্র করে র‌্যাব সদর দফতরের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব ১১ টহল বৃদ্ধি করেছে। র‌্যাব ১১-এর আওতাধীন সব স্থানে র‌্যাবের নিরাপত্তা ও টহল অব্যাহত থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক কমান্ডার রাসেল আহমেদ কবির এসব জানান। তিনি জানান, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন হবে এবং আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেখানে কাজ করব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow