Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৫
জাতীয় পার্টি চাইবে ১০০ আসন
সাক্ষাৎকারে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
জাতীয় পার্টি চাইবে ১০০ আসন

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, তাদের দল ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করতে হলে কমপক্ষে ১০০ আসন চাইবে জাতীয় পার্টি।  ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিত্বসহ সরকারের সব পর্যায়ে আনুপাতিক হারে সুবিধা দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি না, সমঝোতা হওয়া কোনো কোনো আসনে অতীতের মতো আওয়ামী লীগের  প্রার্থী থাকবে। গতকাল গুলশানের বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সব কিছুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পার্টির প্রেসিডিয়াম সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময়মতো তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। অতীতে স্থানীয় ও উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেছে জাপা। আগামী জাতীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নির্ভর করছে সব দলের সততা ও আন্তরিকতার ওপর। গোটা জাতি অধীর আগ্রহে নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায়। রাজনীতির আকাশ যতই মেঘাচ্ছন্ন থাকুক না কেন ২৩ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সব বিচক্ষণতা দিয়ে খুঁজে নেবে আলোর প্রদীপ। জাপা মহাসচিব বলেন, একাদশ নির্বাচনের জন্য ১১ নভেম্বর থেকে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। আমরা পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছি। জাপা ২৭ বছর ক্ষমতার বাইরে। ২৭ বছরে যা পারিনি আগামীতে তাই করতে চাই। জাতীয় পার্টি দেশের মানুষের ওপর আস্থা রাখে এবং প্রকৃতির নিয়মে ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেখে। দল গুছিয়ে একটা জায়গায় নিয়েছি। একই আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। এবারের নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সংসদে ভালো কাজের প্রশংসা করেছি। হরতাল-অবরোধের রাজনীতি পছন্দ করি না। জাতীয় পার্টি শান্তির রাজনীতি বিশ্বাস করে। আমরা কখনই নির্বাচন বয়কট করিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ জেলে থেকেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখন জীবন সায়াহ্নে এসে দেখতে চান জাতীয় পার্টি ক্ষমতায়।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার গঠন পুনর্গঠন অথবা গঠন না করার এক্তিয়ার সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।  জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে বলেন, তারাও একটি পরিকল্পনা নিয়ে জোট করেছে। তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান রয়েছে। তারপরও পাওয়া না-পাওয়ার বিষয় রয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রীয় জোট কীভাবে গঠন হবে তা ‘মূল কারিগর’ এর ওপর নির্ভর করছে। তিনি সদয় হলে একরকম হবে, আর নির্মম হলে কী হবে তা সময় বলে দেবে। নির্বাচনে সম্মিলিত জাতীয় জোট প্রসঙ্গে হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এ জোটে নিবন্ধিত তিনটি দল রয়েছে। জোটের নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, গতবারের মতো হবে না, এবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং বেগম রওশন এরশাদ একযোগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হবেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংলাপ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হোক। ইসি তাই করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মনোনয়নের আবেদনপত্র সহজ করা দরকার।

 নির্বাচন কালো টাকার প্রভাবমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে, সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারকালে সংঘাত এড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ব্যবহার সীমিত রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ ভোটাররা ইভিএম ব্যবহারে এখনো অভ্যস্ত নয়। ইভিএম ব্যবহারে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

সব দল এলে নির্বাচন সমাদৃত হবে : প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সব দল অংশ নিলে নির্বাচনে উৎসবমুখর ও সমাদৃত হবে। গতকাল গুলশানের নিজ অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন,  ঘোষিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিলে নির্বাচন কমিশনের সততা ও আন্তরিকতা আছে। তাই এই তফসিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে আহ্বান জানান। নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইসি ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সুশীল সমাজের মতামত নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণাকে ইতিবাচক বলেই মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, সব দল সহযোগিতা করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, যা দেশ-বিদেশে সমাদৃত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow