Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৩
মার্কিন কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিশনে শুনানি
ভীতিকর অবস্থার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের
প্রতিদিন ডেস্ক

মার্কিন কংগ্রেসে ‘টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশনের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে নির্বাচন এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনায় বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করা হলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর জন সিফটন অভিযোগ করেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গুম-খুনের ঘটনাও ঘটছে। বিরোধী দলের লোকজন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে সক্ষম হচ্ছে না স্বাভাবিকভাবে।  বিশেষ বাহিনীর দমন-পীড়নে ভীত-সন্ত্রস্ত অনেকে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এহেন নির্দয়-নিষ্ঠুর-পৈশাচিক আচরণ থেকে বিরত করা উচিত। এমনকি গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভয় আর ভীতি। ফলে সাংবাদিকরা ঠিকমতো কাজ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে যে, বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।’ ‘সাংবাদিক শহিদুল ইসলামকে অবশেষে জামিন প্রদান করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে উচ্চতর আদালতে আপিল করার’—উল্লেখ করেন সিফটন। নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির অবসানে মার্কিন কংগ্রেসকে ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সিফটন বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতা নেবে তাদের বৈধতা থাকবে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যকর রাখতেই অবাধ-সুষ্ঠু পরিবেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই’—মন্তব্য সিফটনের। জন স্টিফটন জাতিসংঘে বাংলাদেশের ট্রুপস নিষিদ্ধ করার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘যারা প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তারা শান্তিরক্ষায় থাকা উচিত নয়।’ খবর এনআরবি নিউজ। এ সময় ঢাকা থেকে সম্প্রতি বদলি হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ দূতাবাসের উপপ্রধান মাহবুব সালেহ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের গোলাম দস্তগীর, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট অমর ইসলাম, যুবলীগের সেক্রেটারি জাহিদ হোসেন প্রমুখ ছিলেন ফ্লোরে। এ ছাড়াও লন্ডন থেকে এসেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী  হিসেবে খ্যাত ব্যারিস্টার টবি ক্যাডমেন প্রমুখ। অপর আলোচক ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পলিসি এনালিস্ট ওয়ারিস হারিস বলেন, নিকট প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোতে ঠাঁই না পেলেও বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে রোহিঙ্গাদের, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় একটি ঘটনা। ছোট্ট একটি দেশ, যেখানে ১৬ কোটি মানুষ বাস করছে, সেই ঘিঞ্চি অবস্থার মধ্যেই প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতা দেখিয়েছে তাকে অবজ্ঞার অবকাশ থাকতে পারে না। ওয়ারিস বলেন, আমরা এখানে আলোচনা করছি, মতামত ব্যক্ত করছি, এর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণের কোনো যোগসূত্র নেই। আমরা স্বাধীনভাবে যা পর্যবেক্ষণ করছি তার ওপরই আলোকপাত করছি, যাতে কংগ্রেস আমাদের এ আলোচনায় কিছুটা তথ্য-উপাত্ত পায়। তবে, নির্বাচন এলেই বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিগৃহীত হন। ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা রাজনৈতিক মতলবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের ওপর চড়াও হয়। হারিস বলেন, নির্বাচন এলেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অত্যাচার-নির্যাতন আর হুমকি-ধমকির মুখে পড়েন—এটি অনেক দিন থেকেই চলে আসছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়েই বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রিস্টান আন বৌদ্ধরা আক্রান্ত হয়েছেন। পুরো আলোচনার সঞ্চালনায় ছিলেন থিঙ্কট্যাংক ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্র্যাসির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোনা দেবি। ‘তিনি তার সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন তার সমর্থন তেমনভাবে পাননি ৩ আলোচকের মন্তব্যে/বক্তব্যে’—এ অভিমত পোষণ করেন ফ্লোরে থাকা গোলাম দস্তগীর। দস্তগীর আরও বলেছেন, ‘এটি ছিল জামায়াত-শিবিরের মদদের একটি আলোচনা বা ব্রিফিং। সেজন্যই নিউইয়র্কের শিবিরের এক ক্যাডারের সঙ্গে এসেছিলেন ব্রিটিশ ব্যারিস্টার টবি ক্যাডমেন। টবি অবশ্য প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেননি।’ সঞ্চালক মোনা বলেন, ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যম, শিক্ষার্থী, এ্যাক্টিভিস্ট এবং বিরোধীদের ওপর ক্র্যাকডাউন নেমে এসেছে।’ আলোচনা শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের উপপ্রধান মাহবুব সালেহ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জন সিফটনের একটি প্রসঙ্গের সংশোধনী দিয়ে বলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে বিদেশি পর্যটকদের সবসময় সাদর আমন্ত্রণের ঘোষণা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনের সময় কোনো বাধা প্রদানের প্রশ্নই ওঠে না। এ ছাড়া, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। আরেকটি সংশোধনী দিয়ে মাহবুব সালেহ বলেছেন, সুনির্দিষ্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। আদালতের ওপর বর্তমান সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণভাবে দণ্ড প্রদানের তথ্যও ঠিক নয়। মাহবুব সালেহ শুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আরও বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থেই সব দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছে সরকার। সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে কিংবা মামলায় অভিযুক্ত করেছে, তাদের তালিকা সংগ্রহ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রধানমন্ত্রীর খেয়াল রয়েছে শতভাগ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow