Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫৩
কোকোর স্ত্রী শর্মিলার কারণেই কপাল পুড়ল মিলনসহ দুই প্রার্থীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কচুয়াবাসীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা ছিল তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শর্মিলা রহমান সিঁথির আবদার রাখতে গিয়ে সরে যেতে হয় জনপ্রিয় প্রার্থী এহছানুল হক মিলনকে। এলাকার মানুষের অভিমত, মোশাররফ হোসেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে অপরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আদম ব্যবসা করে আর্থিকভাবে ব্যাপক সচ্ছলও তিনি। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেন। এসে মনোনয়ন জমা দিয়েই দলীয় প্রার্থী! সৌভাগ্যও বটে। সূত্র মতে, মোশাররফ হোসেনের মনোনয়ন ভালোভাবে নেয়নি কচুয়া বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শুধু কচুয়া বিএনপিই নয় ঢাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরাও ড. এহছানুল হক মিলনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় হতবাক হয়েছেন। গত দুদিন ধরে গুলশান ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলন সমর্থকরা বিক্ষোভ করে তালাও লাগিয়ে দেয়। পরে অবশ্য আল্টিমেটাম দিয়ে তালা খুলে দেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বড় অঙ্কের আর্থিক  লেনদেনও হয়েছে এ মনোনয়নে। এ দিকে একই অভিযোগে কপাল পুড়ল বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মরহুম এ এম বদরুজ্জামান খান খসরুর ছেলে আড়াইহাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুর রহমান সুমনেরও। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন মরহুম বদরুজ্জামান খসরুর ভাই সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। চাচা ভাতিজার কারও ভাগ্যেই মনোনয়ন জোটেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে আড়াইহাজারে। ঢাকায় গুলশান কার্যালয়েও এই ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটে। বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বদরুজ্জামান খান খসরু গত জুলাইয়ে মারা যাওয়ার পর এই উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের  নেতা-কর্মী তাঁর ছেলে সুমনকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়। সুমন সমর্থকরা জানান, প্রয়াত আরাফাত রহমান  কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানের আবদার রাখতে গিয়েই বাদ দিতে হয়েছে মাহমুদুর রহমান সুমনকে। এ নিয়ে বড় অঙ্কের লেনদেনও হয়েছে বলে অভিযোগ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow