Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৬
সাতজন শপথ নেননি, ভোট নিয়ে মামলা করবে ঐক্যফ্রন্ট
ফখরুল বললেন, শপথের প্রশ্নই ওঠে না
ইসিতে স্মারকলিপি পেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতজন শপথ নেননি, ভোট নিয়ে মামলা করবে ঐক্যফ্রন্ট
সিইসির হাতে গতকাল স্মারকলিপি তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি ও ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সঙ্গে তাদের নির্বাচিত সদস্যরা শপথও নেবেন না এবং সংসদেও যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। নির্বাচনে সরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহারসহ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও সর্বাত্মক পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্টের ২৯৮ জন প্রার্থীর পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়। ফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর আগে মির্জা ফখরুল পাঁচ পৃষ্ঠার স্মারকলিপির পুরোটাই সিইসির সামনে পাঠ করেন। এরপর নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন কি না- এ প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। কারণ আমরা সর্বাত্মকভাবে এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। এরপর আর শপথ গ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।’ এর আগে বেলা ১১টার দিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব ফ্রন্টের পক্ষ থেকে তাদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিষয়টি নাকচ করেন। বৈঠকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে ধানের শীষের এমপি প্রার্থীদের হাতে একটি ফরম দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তা পূরণ করে দিতে বলা হয়। এদিকে বেলা ৩টার পরপরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন ভবনে যায়। এ সময় ভবনটি ঘিরে ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শত শত সদস্য প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে ভবনটি ঘিরে রাখায় এলাকাটিতে যুদ্ধংদেহি মনোভাব বিরাজ করে। নির্বাচন ভবনের পুব দিকের বড় রাস্তাটি খোলা রেখে আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনসাধারণের চলাচলেও ওই সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মিডিয়া কর্মীদেরও পরিচয় জেনে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। স্মারকলিপিতে ‘গত ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর’ ভোট ডাকাতি ও তা-বের ১৭টি চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, দীর্ঘ ১০ বছর ভোটাধিকারবঞ্চিত জনগণকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আবারও বঞ্চিত করার দায় নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। এজন্য অনতিবিলম্বে এ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলার সহায়তায় নির্বাচনের আগের রাত ৯টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধ করে সারা দেশে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করা হয়। এ ছাড়া ওই রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ কর্মী ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সহায়তায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্সে ভর্তি করা হয়। ১৭টি পয়েন্টে অনিয়মের চিত্র ধরা হয় স্মারকলিপিতে। এ ছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, ভোট জালিয়াতি, সরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নজিরবিহীনভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়।

গুলশানে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক : এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। বৈঠকে প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্বাচনে অনিয়মের বর্ণনা শোনেন তারা। অনেকেই লিখিতভাবে তা জমা দিয়েছেন ফ্রন্টের নেতাদের কাছে।

বৈঠকসূত্র জানান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে ধানের শীষের এমপি প্রার্থীদের হাতে একটি ফরম দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তা পূরণ করে দিতে বলা হয়। বৈঠকে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানকে নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের দলীয় ফোরামে তুলে ধরবেন।’ পরে তিনি থেমে যান। বৈঠকে স্কাইপিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও কথা বলেন। শিগগিরই দলের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে দলের ভুলত্র“টি বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানা যায়।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘আমরা যেহেতু এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি, ফলে কারও শপথ নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠকে ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জয়নুল আবেদীন, নিতাই রায়চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, মিজানুর রহমান মিনু, আমিনুল হক, আবদুস সালাম, শাহজাহান মিয়া, ভিপি জয়নাল আবেদীন, হারুনুর রশীদ, আসাদুল হাবিব দুলু, আনোয়ারুল আজীম, শামা ওবায়েদ, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, গৌতম চক্রবর্তী, আলমগীর কবির, জহির উদ্দিন স্বপন, দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন টুকু, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, সুলতান মাহমুদ বাবু, রফিকুল ইসলাম হিলালী, শরীফুল আলম, জালাল উদ্দিন, আজিজুল বারী হেলাল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বেশির ভাগ প্রার্থীই উপস্থিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের আগমনকে কেন্দ্র করে গতকাল দিনভর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয় নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow