Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৩
পানি শুকিয়ে তিস্তা এখন মরুভূমি
রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট
পানি শুকিয়ে তিস্তা এখন মরুভূমি
খরস্রোতা সেই তিস্তা নদী এখন ধু-ধু বালুচর -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বর্ষাকালের খরস্রোতা তিস্তাকে শীতকালে যেন চেনাই যাচ্ছে না। পানির কারণে ফুলে ফেঁপে ওঠা তিস্তা এখন পানির অভাবে শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।  ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশ অংশ তিস্তা এখন মৃতপ্রায়। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্র্য রয়েছে হুমকির মুখে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার পর্যন্ত তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টেই পানি ছিল মাত্র ৪ হাজার কিউসেক। অথচ আর কদিন পরেই শুরু হওয়ার কথা তিস্তা ব্যারেজের সেচ কার্যক্রম। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আপাতত প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কিউসেক পানি রয়েছে, যা সিলড্রাপ ও ক্যানেলগুলো ভরে রাখা হয়েছে। এর চেয়েও যদি পানি কমে যায় তবে সেচ প্রকল্প সচল রাখাই কষ্টকর হয়ে যাবে। স্থানীয়রা জানান, শীতকালে বাংলাদেশ অংশের তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। এতে করে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারাজও অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিস্তা নদীতে দিনভর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা এখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।  বর্তমানে হেঁটেই তিস্তা পাড়ি দেওয়া যায়, তাই খেয়া ঘাটের মাঝিদের আর নৌকা বাইতে হয় না। এ কারণে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা।  কেউ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় গেলেও কেউ আবার তিস্তা ব্যারাজের সামনে সামান্য যে একটু পানি আছে তাতেই পর্যটকদের নৌ-ভ্রমণের আনন্দ দিয়ে আয় করছেন ডাল ভাতের টাকা।  সব মিলে চিরচেনা হিংস্র তিস্তা আজ পানির ন্যায্য হিস্যাবঞ্চিত হয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে গাছপালা। আর তাই এই তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও চলে গেছে অন্যত্র। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরের বালুতে ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ হলেও সেচের অভাবে তা মরে যাচ্ছে।  অধিক পরিশ্রম করে প্রতিদিন সেচ দিয়ে কৃষক চাষাবাদ করছেন। তবে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। তিস্তা পাড়ের কৃষক তাহাজুল ইসলাম, আবুল মিয়া ও খালেক বলেন, বর্ষাকালে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানিসহ ঘরবাড়িহারা হন এ অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে ফসল রক্ষায় পানির প্রয়োজন হলেও তিস্তায় পানি দেয় না ভারত। ফলে শুষ্ক মৌসুমেও পানির অভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে তিস্তা পাড়ের। নদী শাসন ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না থাকায় তিস্তা নদী এলাকার কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow