Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৭
দলে একযুগ না হলে উপজেলায় মনোনয়ন নয়
রফিকুল ইসলাম রনি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ শেষ না হতেই জোর প্রস্তুতি চলছে উপজেলা নির্বাচনের। মার্চে শুরু হচ্ছে ধাপে ধাপে এ নির্বাচন। দলীয় প্রতীকে চেয়ারম্যান এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত (মহিলা) ভাইস চেয়ারম্যান পদে এ নির্বাচন হবে। সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনেও জয় চায় আওয়ামী লীগ। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জরিপে একটি প্রশ্নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে- সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কত দিন? দলের রাজনীতিতে ১২ বছর সরাসরি যুক্ত না থাকলে দলের মনোনয়ন নয়- এমন মনোভাব দলের সভাপতি শেখ হাসিনার। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ১০ বছরে অনেক এমপি-মন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় নেতার হাত ধরে বিএনপি-জামায়াত থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কিছু এমপি ও নেতার কারণে নবাগত ওই নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে দলের পদপদবিও পেয়েছেন। এখন তাদের অনেকের লক্ষ্য নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এজন্য স্থানীয় এমপি, জেলার নেতা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। তাদের কারণে দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত-ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা তবে। উপজেলা নির্বাচনে এবার কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নিজস্ব জরিপ, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে জনপ্রিয়তায় যিনি সবচেয়ে এগিয়ে থাকবেন তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ জরিপের যে কয়েকটি ধাপ ধরা হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত (মহিলা) ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীকে অবশ্যই কমপক্ষে দলের রাজনীতির সঙ্গে ১২ বছর যুক্ত থাকতে হবে। নইলে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন দলীয় সভাপতি। কারণ হিসেবে দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, গত ১০ বছরে যারা দলে যোগদান করেছেন, তারা অনেকেই এখন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। অন্যদিকে তাদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখিও হতে হয়নি। দলের পদপদবিও বাগিয়েছেন। এর ফলে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢেউ যেন স্থানীয় সরকারেও পড়ে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান। এর মধ্যে সঠিক প্রার্থী বাছাই অন্যতম। যিনি দীর্ঘদিন দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তৃণমূলে জনপ্রিয়তা আছে, দুঃসময়ে দলের জন্য ত্যাগ আছে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ জানা গেছে, দেশের ৪৯২টি উপজেলায় চেয়ারম্যান এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত (মহিলা) ভাইস চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ হাজার ২৩ জন প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এবার বেশ কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও তাদের কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে ওই প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইলে বঞ্চিত হবেন না বলে নীতিনির্ধারকরা নিশ্চিত করেছেন। অন্যসব উপজেলায় দলীয় মনোনয়নের বেলায় নানামুখী হিসাব-নিকাশ এবং প্রার্থীদের যোগ্যতার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টির চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে পরপর দুই দফায় বিজয়ীদের আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী উপজেলা নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী থাকবে। বিদ্রোহী হলেই বহিষ্কার করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এখানে বেশ কিছু জরিপ ও দলীয় সভাপতির নিজস্ব জরিপ দেখেই সিদ্ধান্ত হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত (মহিলা) ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোনো উড়ে এসে জুড়ে বসাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। যারা দলের জন্য নিবেদিত, পরীক্ষিত ও ত্যাগী- তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ স্থানীয় সরকার আইনে (উপজেলা পরিষদ) বলা রয়েছে, উপজেলা পরিষদ গঠনের পর প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাব অনুযায়ী, যেসব উপজেলা পরিষদের মেয়াদ আগে পূর্ণ হবে, প্রথম পর্যায়ে সেসব উপজেলায় নির্বাচন হবে। চলতি বছর মার্চে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা নির্বাচনের জন্য উপযোগী হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow