Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১১
দূরত্ব বাড়ছে ১৪ দলে
সরকারে না বাইরে থাকব সম্পূর্ণ আমাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার : ইনু । সরকারে থাকা না থাকা নিয়ে ভাবছি না : মেনন
রফিকুল ইসলাম রনি
দূরত্ব বাড়ছে ১৪ দলে

মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি ১৪-দলীয় জোট শরিকদের। মহাজোটগত বিজয় পেলেও এককভাবে আওয়ামী লীগ বিজয় উৎসব পালন করেছে শনিবার। দলটির ‘একলা চলো নীতিতে’ দূরত্ব বাড়ছে দীর্ঘ ১৩ বছরের মিত্র ১৪-দলীয় জোট শরিকদের। আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে বসছে সংসদ অধিবেশন। সংসদে জোট শরিকদের ভূমিকা কেমন হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগ চায় সংসদে জোট শরিকরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুক। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না করায় ক্ষোভ বাড়ছে শরিকদের মধ্যে। জোটের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ভোট নিয়েছি। এখন বিরোধী দলে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর সরকারের সঙ্গে থাকব, নাকি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকব তা নির্ধারণ করবে দলীয় ফোরামে। অন্য কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। সবকিছু পরিষ্কার করতে এখনই বৈঠক দরকার বলে মনে করেন জোটের শরিকরা।  জানা গেছে, ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২৩ দফার ভিত্তিতে ১৪-দলীয় জোট গঠন করা হয়। সে সময় থেকেই তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জোটের শরিকরা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করে তারা। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ দলকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। এর পরের সরকারেও ছিলেন তারা। তবে এবার কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের এই একলা চলো নীতিতে মর্মাহত শরিক দলের নেতারা। জোটের শরিক নেতারা বলছেন, ১৪-দলীয় জোট নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো পরিকল্পনা থাকলে অথবা আগ্রহ না থাকলে শরিকদের সঙ্গে বসে তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘১৪ দল বিরোধী দলের আসনে বসলে সরকারের জন্য ভালো। তাদের জন্যও ভালো। শরিকরা বিরোধী দলে থাকলে তাদের সমালোচনা থেকে সরকার শুদ্ধ হতে পারবে।’ এতে আপত্তি তুলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শরিক দলের শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, আমরা একসঙ্গে ভোট করেছি। ১৪-দলীয় জোট আদর্শিক জোট। এটাকে টিকিয়ে রাখবে, নাকি রাখবে না এটা এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘২০০৪ সালের পর থেকে ১৪ দল এবং পরবর্তীতে মহাজোট একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার পরিচালনার কাজ অব্যাহত আছে। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোট ঐক্যের বিপুল বিজয়ের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে কেবল মাত্র আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে এককভাবে বিজয় উৎসব পালনের ফলে নানাবিদ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন এমন দুটো ঘটনা ঘটল তার উত্তর আওয়ামী লীগের নেতারাই দিতে পারেন।’ তিনি বলেন, জাসদ সরকারকে সমর্থন দেবে নাকি, বিরোধী দলে থাকবে তা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এটা আওয়ামী লীগ বা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিকে আওয়ামী লীগ পাঁচটি আসন ছেড়ে দেয়। দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দুই মেয়াদে সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকা না থাকা নিয়ে ভাবছি না। গত রবিবার আমাদের পলিটব্যুরোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে তা জানিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে কিছু বলার নেই।’ গত রবিবার ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠকের পর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে ২০০৪ সালে যে সব ভিত্তিতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল তার মূল বিষয়গুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নিরঙ্কুস বিজয় লাভ করলেও, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির তৎপরতা অব্যাহতভাবে বিদ্যমান। এই অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের বিজয় সুরক্ষায় ১৪ দলের ঐক্যবদ্ধতা ও এ যাবৎ কালের অবস্থান, আচরণ সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। ওয়ার্কার্স পার্টি সেই লক্ষ্যে তার তৎপরতা অব্যাহত রাখবে এবং জাতীয় সংসদে এ যাবৎ কালের পার্টির অবস্থান বহাল থাকবে।’ জোটের আরেক শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘১৪-দলীয় জোট একটি আদর্শিক জোট। আমরা জোটে আছি। সরকারে থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আবার এখন মন্ত্রিসভায় না রাখলেও যে আগামীতে কাউকে নেবেন না-এমনও নয়। মন্ত্রিসভা গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রী যখন চাইবেন তখনই মন্ত্রিসভার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন করতে পারবেন। তবে সাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদ রাজনীতি নির্মূলে ১৪ দলকে আরও বেশি সুসংগঠিত করতে হবে।’

up-arrow