Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৮
আওয়ামী লীগের সামনে সম্মেলন
মার্চের পর উপজেলা-জেলা। এরপর শুরু কেন্দ্রের তোড়জোড়, থাকবে ব্যাপক চমক
রফিকুল ইসলাম রনি
আওয়ামী লীগের সামনে সম্মেলন

আগামী মার্চের পর তৃণমূল আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে শুরু হচ্ছে উপজেলা, জেলা ও মহানগর সম্মেলন। এরপর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হবে। সংসদ নির্বাচন, মন্ত্রিসভা এবং সংরক্ষিত নারী আসনের মতোই ব্যাপক চমক থাকবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, যথাসময়েই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হবে। নির্বাচন-পরবর্তী বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দলকে গুছিয়ে আনতেই তৃণমূলে উপজেলা, জেলা ও মহানগরের সম্মেলন হবে। সম্মেলন করা হবে সহযোগী সংগঠনেরও। দলীয় সূত্রমতে, মার্চে অনুষ্ঠেয় ডাকসু ও উপজেলা নির্বাচনের পর উপজেলা, জেলা ও মহানগরগুলোর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ মার্চে ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর আওয়ামী লীগের সামনে ভাবনা শুধুই সম্মেলন নিয়ে। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, গত ১০ বছর দল টানা ক্ষমতায় থাকায় এবং দলের অনেক নেতাই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় কিছুটা হলেও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনার পর মন্ত্রিসভা গঠনে নতুন চমক দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংরক্ষিত নারী আসনেও বড় চমক রেখেছেন তিনি। এ মুহূর্তে সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনও নেই। সে কারণে এবার দলকে শক্তিশালী করতে এবং আগামীতে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনতে মনোযোগী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘিরে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসবে কিনা- এ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ পদে আরেক দফা থাকছেন নাকি নতুন মুখ আসছে- তা নিয়েও দলের ভিতরে-বাইরে চলছে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বেশ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ আছে। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে কথা বলেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নির্ধারিত সময়েই জাতীয় কাউন্সিলের তাগিদ দিয়েছেন। এর আগে যেসব জেলা, উপজেলা ও মহানগরের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলোর দ্রুত সম্মেলন করার তাগাদা দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল মুহম্মদ ফারুক খান (অব.) বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অনেক উপজেলা, জেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুলো সম্পন্ন করব। যেসব উপজেলা, জেলা ও মহানগরের সম্মেলনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত করা হবে। এরপর শুরু হবে কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি।’ তিনি বলেন, ‘আগামী কাউন্সিল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ কমিটির নেতৃত্বই ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে।’ কোনো চমক থাকবে কিনা- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যা করে দেশের জন্য করে, রাষ্ট্রের জন্য করে। মন্ত্রিসভা, সংরক্ষিত নারী আসনের মতোই চমক থাকবে দলের কাউন্সিলে।’ দলীয় সূত্র জানান, এবার আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বেশকিছু নেতার কপাল পুড়বে। এর মধ্যে একই পদে যারা তিন মেয়াদে থাকলেও কোনো অর্জন নেই, এমন নেতারা ছিটকে পড়তে পারেন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে। তাদের স্থলে ঠাঁই হতে পারে মাঠের জনপ্রিয়, কর্মঠ ও দক্ষ নেতাদের। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক বেশকিছু সম্পাদকীয় পদ রয়েছে। সেগুলোয় যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের অনেকেই কোনো কাজ করছেন না। এদের কার্যক্রমে খুশি নন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম থেকেও বাদ পড়বেন অনেকেই। বাড়ানো হবে নারী নেতৃত্ব।

বিদ্রোহীদের পদে নয় : মার্চের পরই শুরু হচ্ছে উপজেলা, জেলা ও মহানগরের সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিগত সংসদ ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা দলের বিরুদ্ধে ভোটে ছিলেন বা থাকবেন তাদের আগামীতে কোনো কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না। কারণ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা বলছেন, যে একবার দলের সঙ্গে বেইমানি করে সে চিরজীবনই বেইমানি করবে। সে কারণে আসন্ন সম্মেলনে তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হবে না। তারা কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত, যারাই বহিষ্কৃত হবেন তাদের আর দলে নেওয়া হবে না।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow