Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৫

তদন্তগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

তদন্তগুলোর তদন্ত হওয়া দরকার
মোবাশ্বের হোসেন

স্থপতি ও নগর বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ১১৭ জন মানুষের মৃত্যুর পর আবারও সেই এলাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মরছে, সম্পদ পুড়ছে, তদন্ত কমিটি হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। কেন তদন্তগুলো আলোর মুখ দেখছে না, কাদের কারণে নিমতলী দুর্ঘটনার ৯ বছর পরও ভয়ঙ্কর রাসায়নিক গুদামগুলো সরানো গেল না তারই এখন তদন্ত প্রয়োজন। কাদের কারণে নিমতলীর তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যায়নি সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত তাদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। না হলে লোক দেখানো এসব তদন্তের প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে। বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাে  ৮১ জনের মৃত্যু প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি এ কথা বলেন।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, নিমতলীতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এত বছরেও সেখান থেকে রাসায়নিক গুদামগুলো সরানো যায়নি। এমন ঘটনায় তো সকালে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিকালে বাস্তবায়ন করা উচিত। তখন তো রাসায়নিক গুদামগুলো সরানোর কথা বলা হয়েছিল। কেন একই ধরনের দুর্ঘটনা একই জায়গায় ঘটল? তখনো তদন্ত কমিটি হয়েছিল। এবারও হয়েছে। একটা ঘটনা ঘটার পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়, কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আর আলোর মুখ দেখে না। এটা পরিস্কার যে, মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্যই এসব তদন্ত। তদন্ত অনুযায়ী কাজ না করলে কীভাবে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে? তদন্তের সুপারিশ যাদের বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদেরই এখন বিচার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, মহল্লার ভিতর এ রাসায়নিক গুদাম তো বোমার চেয়ে ভয়ঙ্কর। নিমতলী দুর্ঘটনার পরও যারা সেগুলো সরায়নি তারা নিজেরাও তো বোমার ওপর ঘুমাচ্ছে। বিষয়টা যদি এবারই প্রথম ঘটত তাহলে বুঝতাম অসাবধানতাবশত হয়েছে। বার বার ঘটছে। ঢাকা শহরের চারপাশে চারটি নদী থাকতেও পানির অভাবে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে। এটা বিস্ময়কর! সরু রাস্তার কারণে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঢুকতে পারে না। অথচ সরু গলিতে যদি পানির লাইনের ব্যবস্থা থাকত তাহলে ছোট গাড়ি নিয়েই ফায়ার সার্ভিস পৌঁছে যেতে পারত। এসব গলিতে রাত ১২টার আগে বড় গাড়ি ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। একটা গাড়ি ঢুকলেই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এমন দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ নাগরিকের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। দুর্ঘটনার জন্য কাকে দায়ী করবেন? ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। কেউ দায় নেবে না। নগরপিতা থাকা সত্ত্বেও তার হাতে ক্ষমতা নেই। আজ ঢাকা শহরের সব দায়-দায়িত্ব যদি নগরপিতার হাতে থাকত তাহলে তাকে প্রশ্ন করা যেত। এখন যাকেই প্রশ্ন করব সেই বলবে আমার দায়িত্ব নয়। সব কিছু মেয়রের হাতে না দিলেও তাকে মাথার ওপরে ছাতার মতো রেখে সব কিছুর তদারকি করালে এই সমন্বয়হীনতা হতো না।


আপনার মন্তব্য