Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৯ ২২:২৬

শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শহিদুল আলমের মামলার তদন্ত স্থগিত

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলার তদন্ত কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাই কোর্ট। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শহিদুল আলমের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে শহিদুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এফ হাসান আরিফ ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি  জেনারেল মাহবুবে আলম। শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় কেন তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রমনা থানার ওসি, পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) পরিদর্শক  মো. মেহেদী হাসান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) পরিদর্শক আরমান আলী এবং ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত বছরের ৩ ও ৪ আগস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে  বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন শহিদুল আলম। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে বাসা থেকে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন উসকানিমূলক মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তার নামে মামলা করা হয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান শহিদুল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩ মার্চ তিনি হাই কোর্টে এই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত মঙ্গলবার শহিদুল আলমের মামলার নথি তলব করে। গতকাল সেই নথি দেখার পর হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পরে সাংবাদিকদের বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। অন্যদিকে শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা  হোসেন বলেন, আমাদের মূল বিষয়টা ছিল যে, উনার বিরুদ্ধে যখন মামলাটি হয় তখন তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনটি ছিল। পরে আইনটির ৫৭ ধারা বাতিল করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। ওই আইনে বলা হয়েছে, সাইবার ট্রাইব্যুনালে যদি কোনো মামলা সূচিত বা গৃহীত হয়, তবে সেগুলো চলবে। অন্য কিছু চলার  কোনো এখতিয়ার নতুন আইনে রাখা হয়নি।


আপনার মন্তব্য