Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুন, ২০১৬ ২২:৪৯
শখের শাড়ি
শখের শাড়ি
মডেল : তানজিন তিশা - পোশাক : ইনফিনিটি ছবি : ফ্রাইডে

৩০-এ এসে প্রিন্ট বা রং বাছুন নিজের  ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী। বোল্ড প্রিন্ট বা গাঢ় রং নিয়ে এক্সপেরিমেন্টও করতে পারেন। গতানুগতিক ব্লাউজের ফ্যাশনকে বিরাম দিয়ে শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন স্ট্রাকচার্ড টি-শার্ট, জ্যাকেট বা ক্রপ টপ।

 

ঘরের আলমারিতে শাড়ি জমানোর নেশা ললনাদের কাছে মোটেই নতুন কিছু নয়। শুরুর দিকে দুয়েকটা শাড়ি জোগাড় করতে হিমশিম খেলেও দিন দিন আলমারিতে শাড়ি জমতে শুরু করে। আর এর পেছনের গল্পটাও কিন্তু এক। শখ! হ্যাঁ, শখের বশে শাড়ি সংগ্রহের বাতিক অনেকেরই আছে। যদিও শুধু শখ বলে এটি এড়িয়ে যাওয়ার নয়। বিভিন্ন উপলক্ষ অনুযায়ী শাড়ির আবেদনই এর মূল কারণ। একেক উপলক্ষকে সামনে রেখে শাড়ি কেনা ও সংগ্রহ থাকা বুদ্ধিমানের মতো কাজ। অনেকে মা-খালা আর বোনের শাড়ি মিলিয়ে নিজের সংগ্রহশালা সাজিয়ে থাকেন সেটাও মন্দ নয়। এত শাড়ির মাঝখান থেকে উপলক্ষ অনুযায়ী শাড়ি বাছাইয়ে আর ঘাম ঝরাতে হয় না। সবচেয়ে বড় কথা বিভিন্ন ডিজাইন, রং আর কাপড়ের কালেকশন সত্যি বেশ কাজের। ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে শখের শাড়ি একটাই হবে এমন চাওয়াটা দোষের নয়। খুব দামি হতেই হবে তা নয়, তবে সংগ্রহের শাড়িটি হবে এক্সক্লুসিভ। রং, নকশা, বুননে অনন্য একটি শাড়ি থাকুক পোশাক সংগ্রহে, যা আর কারও কাছে নেই। এই আত্মতৃপ্তি অনেককেই আনন্দ দেয়। আর তাদের জন্যই ডিজাইনাররা তৈরি করেন এক্সক্লুসিভ সব শাড়ি। এই শাড়িগুলোর ভালো-মন্দ নির্ভর করছে আপনি কেমন কালেকশন করতে চাচ্ছেন তার ওপর। তারকাদের অনেকেই পরেন এমন এক্সক্লুসিভ শাড়ি। কিন্তু ফ্যাশন- সচেতনরাও ইদানীং খোঁজ করছেন এবং সংগ্রহে রাখছেন এসব শাড়ির। যিনি শাড়ি পরবেন তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই এবং আভিজাত্য প্রকাশ করে তেমন শাড়ি বাছাই করা উচিত। একটু বেছে, একটু অন্য রকম কিছু পরার চেষ্টা করলেই ভালো। তবে অবশ্যই নিজস্ব স্টাইল বজায় রাখাটাই বুদ্ধিমানের। অনেকে এক্সক্লুসিভ শাড়ির কালেকশন তৈরি করেন। এ শাড়িগুলো সাধারণ বাজারে সহজলভ্য নয়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস একটি মাত্র নকশা হিসেবে এগুলো বাজারে ছাড়ে। এ শাড়ির কালেকশন হতে পারে আপনার তুরুপের তাস। উপলক্ষ অনুযায়ী এটি পরে চমকে দিতে পারেন সবাইকে। এ ধরনের আনুষ্ঠানিক শাড়ির উপকরণটা হয় লেইস, মসলিন বা ফরাসি শিফনের।

জমকালো অনুষ্ঠানে এখন কাতান শাড়ির জয়জয়কার। তবে কাতানেও রয়েছে অভিনবত্ব। আর কাতানে এক্সক্লুসিভ নকশাও এখন দেখা যায়। পাওয়া যাচ্ছে ঠাকুরবাড়ীর শাড়িগুলোতে নকশায় কাতান বেনারসি। শতভাগ রেশমে বোনা শাড়ি মিলবে। বিশেষ শাড়ি একটি করেই তৈরি হয়। এগুলো সাধারণত দেশের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির জন্য এক্সক্লুসিভ হিসেবে তৈরি  হয়ে থাকে। আর এ শাড়িগুলো পাওয়া যাবে ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। ডিজাইনাররাও তৈরি করেন এক্সক্লুসিভ, এক পিস শাড়ি। হাতে বোনা এবং হাতে কাজ করা প্রতিটি শাড়িই একেকটি মাস্টারপিস। তবে হাতে বুনে বা হাতের কাজ করিয়ে একেকটি শাড়িকে আরও অনন্য করে তোলা হয়।

মসলিন, হাফসিল্ক, শিফনে এ ধরনের শাড়ি বেশি দেখা যায়। দেখা যায় কোনো একটি শাড়ি এক্সক্লুসিভ বা বিশেষ রংয়ের করার জন্য তারা ডাই করে কাপড়ের রংই বদলে ফেলেছে। আর তাতে প্রিন্ট, প্যাচওয়ার্ক পাইপিং, অ্যামব্রয়ডারির সমন্বয়ে তা হয়ে ওঠে অনন্য। শিফন, তসর, মসলিনে যেমন নিজস্ব ডিজাইনে প্রিন্ট, অ্যামব্রয়ডারি, পাইপিং, পুঁতির ব্যবহার হচ্ছে, তেমনিভাবে জামদানির প্রচলিত নকশার সঙ্গে ডিজাইনারদের নিজস্ব নকশার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। এ ধরনের শাড়ি তাঁতিদের দিয়ে তা বিশেষভাবে বোনানো হয়। এক্সক্লুসিভ শাড়ির কালেকশন জোরদার করলেই শুধু চলবে না, কোন বয়সের সঙ্গে কেমন শাড়ি পরবেন তারও একটি খসড়া রাখা চাই। সেটি কেমন হতে পারে জেনে নিন—

বয়সটা যখন ২০ : ২০-এ শাড়ি? একটু অ্যাডভেঞ্চারাস হলে কেমন হয়? অ্যাডভেঞ্চার শুরু হোক শাড়ি ও স্কার্টের ব্যবধান মিটিয়ে। কোমরের চারদিকে শাড়িকে ম্যাক্সি-স্কার্টের মতো প্লিট করতে হবে শুধু। অথবা একটি টিউব ড্রেসের ওপর শাড়িকে এমনভাবে প্লিট করুন যাতে দেখতে গ্রেসিয়ান ড্রেপ ড্রেসের মতো লাগে। প্যান্টের সঙ্গে পরেও আধুনিকতার দারুণ চমক দিতে পারেন ট্র্যাডিশনাল শাড়িতে।

সঙ্গে পরুন বড়োসড়ো একটা টিপ অথবা মেটালিক ফ্ল্যাশ ট্যাটুতে সাজুন। শাড়ির সঙ্গে চাইলে বুট বা গ্ল্যাডিয়েটর স্যান্ডেলও পরতে পারেন। অবশ্যই তা হতে হবে শাড়ির সঙ্গে মানানসই।

৩০-এর জৌলুস : ৩০-এ এসে প্রিন্ট বা রং বাছুন নিজের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী। বোল্ড প্রিন্ট বা গাঢ় রং নিয়ে এক্সপেরিমেন্টও করতে পারেন। গতানুগতিক ব্লাউজের ফ্যাশনকে বিরাম দিয়ে শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন স্ট্রাকচার্ড টি-শার্ট, জ্যাকেট বা ক্রপ টপ। ব্লাউজের অভিনবত্বে আপনার শাড়িও হয়ে উঠবে অন্যরকম।

অ্যাক্সেসরিজ নিয়েও করতে পারেন এক্সপেরিমেন্ট। শাড়ির সঙ্গে মানানসই মেটাল বেল্ট, নেকলেস বা বড় বালা সবই পরতে পারেন। বেল্ট যেমন শাড়িকে দেবে একটা সুগঠিত রূপ, নেকলেস বা স্টেটমেন্ট ব্যাঙ্গল দেবে আধুনিক মাত্রা।

 

চমৎকার ৪০ : বয়স তার ৪০, কিন্তু তাতে কী? অভিজাত শাড়িতে পরিণত নারীর সৌন্দর্য যে সদাই রাজকীয়। হালকা সুতির শাড়ি বা মনোরম জর্জেট প্রিন্ট, সব কিছুতেই ৪০ চমৎকার। একটা শেডেড শিফন শাড়ির সঙ্গে মুক্তোর মালা বা ট্র্যাডিশনাল পাড়ের তাঁতের শাড়ির সঙ্গে ঝুমকা, বেমানান নয় কোনোটাই। শীতকালে শাড়ির সঙ্গে ট্রেঞ্চকোট বা শাল রাখতে পারেন। আভিজাত্যে অনবদ্য হয়ে উঠুন সহজেই।