Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২১:৩৬
ঈদের বর্ণিল প্রস্তুতি
ঈদের বর্ণিল প্রস্তুতি
মডেল : মৌরী আফরিন,: মাইশা,ফয়সাল ও শিপলু -ছবি : নেওয়াজ রাহুল,রাহুল - পোশাক : ট্রাস্ট মার্ট - কো-অর্ডিনেটর : আশিক সাদী

ঈদ উৎসবে এবার বৈচিত্র্যের ছোঁয়া মিলবে তরুণ-তরুণীদের পোশাকে। এবার রঙের বাহার পছন্দের তালিকায় রেখেছেন তারা। ওয়েস্টার্ন লুকের জন্য ওয়েস্টার্ন পোশাকই তাই থাকছে ঈদ পোশাকের প্রথম পছন্দ। গরমের কারণে মেয়েরা স্লিভলেস কুর্তি ও কামিজ বেছে নিচ্ছেন। সঙ্গে লেগিঙ্গস বা জেগিঙ্গস। ছেলেরা খুঁজছেন হালের রঙিন টি-শার্ট, পলো-শার্ট। সঙ্গে ব্র্যান্ডের জিন্স বা গ্যাভার্ডিন। এ ছাড়া ট্রেডিশনাল পাঞ্জাবি তো থাকছেই। গরমের কারণে স্বাচ্ছন্দ্যের রঙিন পোশাকই তাই ঈদের জন্য বেছে নেওয়া। টিনএজরাও বাদ পড়ছেন না এই আধুনিক সময়ের ফ্যাশনেবল পোশাক থেকে।

 

ফ্যাশনে এসেছে নতুনত্ব। রঙের বাহারি ছটা তো রয়েছেই। সঙ্গে যোগ হয়েছে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক। ওয়েস্টার্ন লুকে এই পোশাকগুলো সময়ের চাহিদা মেটাচ্ছে। তরুণ-তরুণীরা ওয়েস্টার্ন পোশাকের দিকে ঝুঁকছে বেশি। গরমের এই সময়ে কোন ধরনের পোশাকটি পরলে আরামদায়ক হবে, সেটি নিয়ে ভাবছেন অনেকে। সেক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে হালের জিন্স, টি-শার্ট। মেয়েরা বেছে নিচ্ছেন স্লিভলেস কুর্তি। এ ছাড়া কামিজ তো রয়েছেই। ছেলেরাও ট্রেডিশনাল সুতির পাঞ্জাবি বেছে নিতে পারেন। তবে যে পোশাকই হোক না কেন এই ঈদে রঙের বাহারের দেখা মিলবে। সবাই বাছছেন রঙিন পোশাক। হোক তা পলো-শার্ট বা স্লিভলেস কুর্তি। আসলে ঈদ উৎসবে ট্রেন্ডে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন পোশাকও পছন্দের তালিকায় রাখছেন তরুণ-তরুণীরা। ওয়েস্টার্ন  পোশাকের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন লুকটাও খুব জরুরি। গরমের এই সময়ে সালোয়ার-কামিজের চেয়ে ওয়েস্টার্ন পোশাকেই অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। ওয়েস্টার্ন পোশাকে ফ্যাশনটাও ঠিক রাখা চাই। লেগিঙ্গের সঙ্গে টপস ও কুর্তা পরতে পছন্দ করেন অনেকে। গরমে স্বস্তির জন্য ঈদ সামনে রেখে ওয়েস্টার্ন পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। এ সময়ে ফ্যাশনে পুরুষের জন্য স্লিম ফিট বা ট্রিম ফিট এখন বেশ চলছে। তবে সফট কালার বেশি আরামদায়ক। সালোয়ার-কামিজে অনেক টিনএজরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আবার ফ্রকও এ সময় ঠিক মানায় না। ফ্যাশন করতে পছন্দ করে এমন টিনএজরা ফিটিং টিউনিক টপস, শার্ট, স্টাইলিশ কুর্তা  বেছে নিতে পারে অনায়াসেই। অন্যদিকে এসব  পোশাকই আবার অনায়াসে মানিয়ে যাবে টিনএজ থেকে ৩০-এর কোটায় আছেন এমন নারীকে। তবে এ  ক্ষেত্রে কাট ও নকশায় কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। টপসের রং গাঢ় না হলেই মানিয়ে যাবে বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে। ঈদ উৎসবের দিনের পোশাক হিসেবে অনেকেই পছন্দ করেন ফ্যাশনেবল টপস বা কুর্তা। টপসের দৈর্ঘ্য আগের তুলনায় বেড়েছে।  দেশীয় উপাদানের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন কাট যুক্ত হয়েছে। আগে শর্ট টপসের প্রচলন বেশি থাকলেও এখন হাঁটু সমান বা তার থেকে লম্বা টপসের প্রচলন বেশি দেখা যায়। মেয়েদের এই ফ্যাশন ট্রেন্ডে রয়েছে রেট্রো স্টাইল। স্লিক স্কার্ট বা টপসের বেশির ভাগ জুড়ে রয়েছে মেটালিক ডিটেইলস। পাঙ্ক আর রক এর অনুপ্রেরণা। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট অ্যাপ্রোচে মোটিভ, প্যাটার্নের লাইন, স্কাইপের উপস্থাপনার মুনশিয়ানা নজর কাড়ে। কমফি আর কুল পায়জামা স্টাইল ইন। এটা খুব ক্রিয়েটিভ আর ইনভেটিভ অপশন। ফুলের মোটিভের পায়জামা আর এক রঙা টপসের সঙ্গে বিভিন্ন রঙের সুডি গলায় (মাফলার জাতীয়)। গরমের ফ্যাশনে পশ্চিমের হাওয়া তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পন্ন হচ্ছে খুব সহজে। ঈদ উৎসবে নিজেদের গর্জিয়াস লুকে উপস্থাপনার জন্য এথনিক এবং পাশ্চাত্য  পোশাকে বর্ণিল পোশাক বেছে নিচ্ছেন অনেকে। বাজারে দেশি-বিদেশি  ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে আসছে ফ্যাশনের সিল্ক, ভেলভেট, জর্জেটের কুর্তি বা জাম্পস্যুট, গাউন কামিজ সবই থাকছে রং এবং প্যাটার্ন ভিন্নতায়। প্যাটার্নে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ফিউশন এবং পাশ্চাত্য কাট। মেয়েদের পোশাকগুলোতে মেশিন এমব্রয়ডারি, এপ্লিক, সিকুইন্স, লেস বা কারচুপির কাজ করা হয়েছে। ছেলেদের  পোশাকে অনুসরণ করা হয়েছে স্লিম ফিট এবং ফেব্রিক  বৈচিত্র্যতা।

 

খেয়াল রাখুন—

ঈদ উৎসবে রঙিন পশ্চিমা পোশাক পরার পাশাপাশি এর সঙ্গে সাজটাও হতে হবে মানানসই। বিশেষ করে রাতে ওয়েস্টার্ন  ড্রেস পরে বেরোতে চাইলে রেড, পিংক কিংবা ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। হেয়ারস্টাইলের ক্ষেত্রে  যেহেতু একেকজনের একেক ধরনের স্টাইল পছন্দ সেক্ষেত্রে গরমকে মাথায় রেখে পনিকেল বা বিভিন্ন স্টাইলে চুল বাঁধতে পারেন অথবা চাইলে চুল ছেড়ে দিয়েও বিভিন্নভাবে রাখতে পারেন। পূর্ব ও পশ্চিমের সমন্বয়ে তৈরি হয় ফিউশনধর্মী পোশাক।  যেসব পোশাকের কাটিং ও প্যাটার্নে পশ্চিমা স্টাইলের আদল বেশি। এসব ফিউশনধর্মী পোশাক তরুণ বয়সীদের কথা চিন্তা করেই তৈরি হয়। আমাদের দেশেও ফ্যাশন ডিজাইনাররা এমন ফিউশনধর্মী পোশাক তৈরি করছেন তরুণদের কথা মাথায় রেখে। ফ্যাশন বা স্টাইলের ক্ষেত্রে টিনএজদের উচ্ছ্ব্সটা বরাবরই একটু বেশি। হাল ফ্যাশনের তরুণ-তরুণীরা ফিউশনধর্মী পোশাক যেমন পরছেন, তেমনি ওয়েস্টার্ন আউটফিটের প্রতিও তাদের আগ্রহ। তারুণ্যের পছন্দের তালিকায় এখন প্রাধান্য পাচ্ছে টি-শার্ট, ফতুয়া, শর্ট পাঞ্জাবি, টপস, থ্রি  কোয়ার্টার প্যান্ট, টাইটস, জিন্স প্যান্ট ইত্যাদি পোশাক। বর্তমানে জনপ্রিয় পোশাক জিন্স বা ডেনিম, স্কার্ট, টপস,  ব্লেজার সব কিছুই পশ্চিমা ফ্যাশনের অংশ। স্কার্ট, টপস পশ্চিমা ফ্যাশন হলেও বর্তমান সময়ে নকশা ও কাটিংয়ে এতে অনেকটা দেশীয় আদল দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে  ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ওয়েস্টার্ন পোশাকের  ভেরিয়েশন অনেক বেশি। শুধু লোকাল মার্কেট নয়, ব্র্যান্ডের সব ফ্যাশন হাউস তৈরি করছে এসব পোশাক। টিনএজ কিংবা তরুণীদের প্রিয়  পোশাকের মধ্যে অন্যতম হলো ফতুয়া বা টপস।  দেশীয় স্টাইলে একটু লম্বা ছাঁটে তৈরি হয় ফতুয়া। আর পশ্চিমা আদলের তৈরি টপসের স্টাইল একসঙ্গে মিলে তৈরি হচ্ছে ফিউশনধর্মী  পোশাক। এসব পোশাকের কোনোটিতে ফতুয়ার কাটিং বেশি লক্ষ্য করা যায় আবার  কোনোটি একটু লং ফর্মে তৈরি করে টপসের প্যাটার্নে বানানো হয়েছে। প্যান্ট-শার্ট পরলে সাজগোজ হবে একদমই সাদাসিধে। হালকা মেকআপের সঙ্গে হালকা গয়না। গরমের এই সময়টাতে ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সঙ্গে মেকআপের বেজটা অনেক ন্যাচারাল এবং লাইট হতে হবে। কারণ গরমে বেশি ভারি বেজ হলে একদমই ভালো লাগবে না। জুতা হবে  পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে।

ফরমাল পোশাকের সঙ্গে কালো জুতাই ভালো মানায়। ক্যাজুয়াল  পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে জুতা পরতে পারেন। তবে ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে স্লিপার মানাবে না। হাই হিল বা সেমি হিল পরতে পারেন। সঙ্গের ব্যাগটি নিন বড় আকৃতির।




সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow