Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুন, ২০১৬ ২১:৫৫
ঈদ ফ্যাশন ফ্যাশনের ঈদ
ঈদ ফ্যাশন ফ্যাশনের ঈদ
মডেল : বিদ্যা সিনহা মীম পোশাক : মেহাজাবীন

ঈদের পোশাকের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান হোক আর না হোক প্রত্যেকেরই চেষ্টা থাকে প্রিয় মানুষটিকে সুন্দর করে সাজানোর। আবার যাদের বাজেট একটু বেশি কিংবা যারা একটু বেশি সামর্থ্যবান তাদের চিন্তা থাকে আরও অন্যরকম।

তারা ছুটে বেড়ান বসুন্ধরা সিটি থেকে রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে। খুঁজে ফেরেন সবচেয়ে দামি আর সুন্দর পোশাক। এ ধরনের পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রথম পছন্দ লেহেঙ্গা ও অন্যান্য গর্জিয়াস কাজ করা পোশাক। লিখেছেন— ফেরদৌস আরা

রোজা শুরু হতে না হতেই জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। সেটা টের পাওয়া যায় বাইরে বেরোলেই। কেউ কেউ গায়ে দেবে ফুটপাথের পোশাক। কেউবা বিলাসবহুল মার্কেটের দামি পোশাক। সবার লক্ষ্য কিন্তু একটা— ঈদে চাই নতুন পোশাক। অবশ্য মূল কেনাকাটার শুরু রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই। তাই বিভিন্ন বিপণিবিতান, দোকান, ফ্যাশন হাউস, ফ্যাক্টরি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দেশের বাইরে থেকে অর্ডারকৃত নতুন পোশাক ও নতুন মালামাল রমজান শুরুর আগে থেকেই আসতে থাকে।

ঢাকার বাজারে একদিকে যেমন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আহাজারি চলে তেমনি বিত্তবান রুচিশীল মানুষেরও কিন্তু অভাব নেই। ঢাকার অভিজাত বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোর দিকে চোখ বুলালেই এ বিষয়টি অনুমান করা যায়। এ ঈদকে সামনে রেখে বিক্রেতারা নিয়ে এসেছেন এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের দারুণ দারুণ সব লেহেঙ্গা, দামি শাড়ি ও মেয়েদের থ্রি-পিস। সংখ্যায় খুব বেশি আয়োজন না থাকলেও দামটা কিন্তু বেশিই। আর তুলনামূলকভাবে এসব পোশাকের ক্রেতা অনেক কম। আট থেকে ২০ হাজার টাকা দামের কাপড়ই বেশি বিক্রি হচ্ছে। দামি কাপড়ের গ্রাহক খুব বেশি নেই। তবে ঈদের একদম কাছাকাছি সময়ে এসব গ্রাহক দোকানে ভিড় জমান। সরেজমিনে রাজধানীর বড় বিপণি কেন্দ্র বসুন্ধরা সিটি, রাপা প্লাজা, পিংক সিটি এবং রূপায়ণ গোল্ডেন এজের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দামি শাড়ি, লেহেঙ্গা এবং থ্রি-পিস বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে কথা হয় অভিজাত বুটিক হাউস মেহাজাবীনের কর্ণধার মাহমুদার সঙ্গে। তিনি বলেন— ‘দেশীয় বাজারে এখন দামি প্রোডাক্টের ক্রেতা বেড়েছে। একটা সময় ছিল বিত্তবানরা ঈদ শপিংয়ের জন্য ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর চলে যেতেন। এখন বিশ্ব বাজারের ট্রেন্ডি সব পণ্য দেশের মাটিতেই পাওয়া যাচ্ছে আর সেগুলোর রেসপন্সও দারুণ। ’ একই কথা প্রসঙ্গে তিনি জানান তাদের বনানী ১১ নম্বর ও যমুনা ফিউচার পার্কের আউটলেটে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার ডিজাইন করা ড্রেস পাওয়া যাচ্ছে। সৌখিন ও ব্যতিক্রম মানুষের জন্য এই সংগ্রহ নিঃসন্দেহে দুর্লভ বলে দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতান, অভিজাত এলাকার নামি-দামি সুপার মার্কেট, সুপরিচিত চেনাজানা দোকানপাট, অলিগলি, ফুটপাথে, যেখানেই রয়েছে পোশাকের সমাহার, জুতা-স্যান্ডেল, চুড়ি, গহনা, কসমেটিক্সের দোকান সেখানেই মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। রাস্তাঘাট গাড়ির জটে যেন জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তারপরও যেন উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। ভিড় ঠেলে, যানজট ছাড়িয়ে লোকজন ছুটছে মার্কেটে। কষ্ট কিংবা খরচ— কোনোটাই যেনবা গায়ে মাখার নয়।

এ কথা শুধু উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তদের জন্যই নয়, একই সঙ্গে নিম্নবিত্ত, দরিদ্রদেরও। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন। এটাই বাস্তবতা। রাজধানী ঢাকার ঈদ-বাজারের চিত্রটা যেমন— পুরো দেশের চিত্রটা প্রায় এমনই। বিশেষ করে বিভাগীয় শহর কিংবা জেলা শহরগুলোর অবস্থা প্রায় রাজধানীকে ছুঁই ছুঁই।

বিত্তবান শ্রেণির ক্রেতাদের এবার ঈদে অন্যতম গন্তব্য বসুন্ধরা সিটি। মধ্যবিত্ত থেকে বিত্তবান সবাই এখানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসছেন। বসুন্ধরা সিটির অধিকাংশ ফ্যাশন স্টোরেই দামি দামি সব লেহেঙ্গা শোভা পাচ্ছে। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল কোনো কোনো লেহেঙ্গার দাম আড়াই লাখ টাকারও বেশি। এ ছাড়া ৫০ হাজার থেকে এক লাখ, এক লাখ ১০ হাজার, এক লাখ ২০ হাজার, দেড় লাখ ও দুই লাখ টাকার লেহেঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে দোকানগুলোতে। দামি লেহেঙ্গাগুলোর বেশির ভাগই নেট ও শিফনের ওপর কাজ করা।

দামের দিক থেকে মসলিন, গাদোয়ান, কাঞ্জিপুরান, কাতান, জর্জেট ও শিফনের কাজ করা শাড়িগুলোই এগিয়ে। নেটের ওপর স্টোনের কাজ করা অনেক শাড়িই ক্রেতাদের চোখ ঝলসে দেবে। তবে অনেকের মতে, বিপণিবিতানগুলো ঈদকে সামনে রেখে মূলত বিয়ের লেহেঙ্গা শাড়িই বেশি দামে নিয়ে আসে।

গুলশানে দেশের অধিকাংশ দামি শাড়ির সংগ্রহ। সেখানকার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা দামের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এসব শাড়ির মধ্যে শিফনের ও গাদোয়ান শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

বিভিন্ন বাজার, দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেও আছে কেনাকাটার নানা আয়োজন। অনেকেরই রোজা আর কর্মব্যস্ততার জন্য মার্কেটে যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠছে না। তাই অনলাইনেই নিজের পছন্দের ছবি দেখে বেছে নিচ্ছেন ঈদের পোশাক অনুষঙ্গ। নিজের, পরিবারের সবার, সংসারের টুকিটাকি কিংবা শখের জিনিস— বেশ বড়সড় লিস্টি। জামা-জুতা, আসবাব, গহনাগাটি, গৃহস্থালি পণ্য, স্মার্টফোন। বাদ যায় না পারফিউমও। এ ক্ষেত্রে যানজট ও গরমের কথা ভেবে একটু শঙ্কিত হলেও শপিং বা কেনাকাটার শখ মন থেকে যায় না। কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি ভিড় হচ্ছে জুতার দোকানেও।

 পোশাকশিল্পে আমরা এখন অনেকটা স্বনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারেও আমাদের দেশের পোশাকের কদর বেশ। শাড়ি, জুতা, স্যান্ডেলসহ আমরা নিজেরাই এখন অনেক কিছু তৈরি করছি। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ঈদে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পোশাক বিক্রি হবে। সেই হিসাবে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকার পোশাক নিজেদের। বাদবাকি সবই বাইরের। পরিসংখ্যানটি নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সুখকর নয়। বিদেশি পোশাক আমাদের অর্থনীতিতে প্রভাব খাটাবে তা কাম্য হতে পারে না। তাই এসবের আভিজাত্যের পোশাকের যেহেতু আমরাও পিছিয়ে নেই তাই আমাদের তৈরি পণ্যে হোক এবারের ঈদের আনন্দ। ঈদের আয়োজনে মেতে উঠুন ঈদ আনন্দে।

পোশাক : মেহাজাবীন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow